সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত এই ২০ দিনে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উপজেলায়। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন উপজেলাবাসী।  

জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার নুরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতেই মারামারিতে নিহত হোন ওই গ্রামের শেখ নজরুল ইসলাম সেলিম মিয়া (৫৫)। এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ থানাপুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে গ্রেফতার করে। 


নিহতের ছোট ভাই ডালিম আহমেদ জানান, পারিবারিক একটি সমস্যাকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির সুভি বেগম (৪৫) ও তার ছেলে তানিম আহমেদ (২০)সহ আরো দুইজন নিহতের ঘরে এসে হামলা চালান। প্রথমে নিহতের স্ত্রীকে আঘাত করে আহত করা হয় এবং পরে শেখ নজরুল ইসলাম সেলিমকে বেধড়ক মারতে থাকনে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই শেখ সালেহ আহমেদ ডালিম বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার রেশ শেষ হতে না হতেই গত ১৭ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জে নিজ অফিসেই নির্মম খুন হোন উপজেলার পুরানবাজার এলাকার এনজিও সংস্থা আশা-এর শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম (৪৮)। 

পুলিশ বলছে, নিহত আবুল কাশেম যখন অফিসে কাজ করছিলেন তখন অন্যান্য সহকর্মী মাঠে কর্মরত ছিলেন। এ সময় অফিসের পিয়ন কাম বাবুর্চি ফজল তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত ফজল মিয়া পালিয়ে যান। ঘটনার পরে ফেঞ্চুগঞ্জ থানাপুলিশ, সিলেট জেলা পিবিআই ও সিআইডি পৃথক পৃথক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালায়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও ফজল মিয়ার মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এখন পর্যন্ত ফজল মিয়া অধরাই আছেন।

সর্বশেষ বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে (২১ জুলাই) উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের মোকাম বাজারে দোকানেই খুন হোন কর্মচারী সুবল বিশ্বাস (৩৮)।  

ফেঞ্চুগঞ্জ থানাপুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে দোকানেই শ্বাসরোধ করে সুবল বিশ্বাসকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পরই ফেঞ্চুগঞ্জ থানাপুলিশের একাধিক টিম সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ৫জনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত সুবল বিশ্বাস স্থানীয় ঋষি বাবু নামক ব্যক্তির দোকানে থাকতেন। সুবল বিশ্বাস ছোটবেলা থেকেই এখানে থাকেন বলে মূল বাড়ির বিস্তারিত পাওয়া না গেলেও পার্শ্ববর্তী ভাটেরা গ্রামে তার বাড়ি ছিলো অনেকে স্থানীয় অনেকে বলছেন। 

এ ব্যাপারে ঋষি বাবু বাদী হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার এস.আই আশরাফুল আলম। 

উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাফায়েত হোসেন সিলেটভিউ-কে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর। এটা ঠিক যে- উজেলায় কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। 

তিনি বলেন, গতকালের খুনের ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫ জন আসামিকে আমরা ধরেছি। তবে এনজিও কর্মকর্তা খুনের ঘটনার রহস্য এখনও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। আর ঘাতকও এখনও পলাতক। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ফরিদ / ডালিম