হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বরযাত্রীবাহি নৌকায় বৈদ্যুতিক তারস্পৃষ্টসহ পৃথক দূর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 


মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সুজাতপুর হাওর থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল। এছাড়ও এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

এর পুর্বে সোমবার রাতে ও ভোরে হাওরে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সাথে পৃথক ভাবে দুটি নৌকাস্পৃষ্ট হয়। এসময় পানিতে পরে নিখোঁজ হন দুই ব্যক্তি।

 

মৃতরা হল, লাখাই উপজেলার পূর্ব বুল্লা এলাকার সহদেব দাশের ছেলে সঞ্জয় দাশ (৩৮) ও বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফ মিয়ার ছেলে আব্দুল মতিন মিয়ার (৪৫)।

 

বিষয়টি সিলেটভিউকে নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার প্রিতিস কুমার দাস।

 

তিনি জানান, মরদেহ হাওরের পানির নিচ থেকে উদ্ধারের পর তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

বানিয়াচং থানার (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব জানান, সুজাতপুর ইউনিয়নের নোয়াবাদ মধুপুর এলাকায় হাওর দিয়ে বৈদ্যুতিক তারের মেইল লাইন বয়ে গেছে। ওই স্থান দিয়ে রত্না হয়ে যাওয়ার পথে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সাথে সোমবার রাতে প্রথমে একটি বরযাত্রীবাহি নৌকা স্পৃষ্ট হয়। এসময় বরযাত্রীবাহি নৌকার বেশ কয়েকজন লোকজন পানিতে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।

 

আর এসময় সঞ্জয় দাস নামে এক জন নিখোঁজ হয়। এছাড়াও ভোরে একই স্থানে আরেকটি নৌকা ঝুলে থাকা তারের সাথে স্পৃষ্ট হয়। এসময় মতিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকালে গিয়ে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দুপুরের দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ডুবুরি দল। আহতদের মধ্যে, জলক দাশ, পলাশ দাশ, বাসুদেব দাশ, উজ্জল দাশ ও দিপু দাশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বানিয়াচং জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ পারভেজ ভূইয়া জানান, ‘আমি যতটুকু জানতে পেরেছি নৌকাটি বৈদ্যুতিক খুটিতে ধাক্কা দেয়ার কারণে এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে’। এছাড়াও ‘কিভাবে প্রকৃত ঘটনা ঘটেছে তা জানতে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আকন্দকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে’।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে