ছাত্রলীগ নেতা তানজীন আল আলামিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।

 


অভিযুক্ত তানজীন আল আলামিন মেয়েদের ওয়াশরুমে প্রবেশের কথা স্বীকার করলেও কাউকে হেনস্তা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সংস্কৃতিবিষয়ক উপসম্পাদক তানজীন আল আলামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকেন্দ্রিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

 

অভিযোগ করা ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে টিএসসিতে এই ঘটনার শিকার হন বলে দাবি করেছেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর পরামর্শে তিনি সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ ইমেইলে পেয়েছেন জানিয়ে ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের যা করণীয় আমরা সেটি করব।’

 

ছাত্রী তার অভিযোগে লিখেছেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে আমি টিএসসিতে নারীদের জন্য নির্ধারিত ওয়াশরুম ব্যবহার করছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীন আল আলামিন মদ্যপ অবস্থায় নারীদের ওয়াশরুমে ঢোকেন। তিনি একটি টয়লেটের দরজা খোলা রেখে মূত্রত্যাগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমার দিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন।

 

‘এতে আমি প্রচণ্ড ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে আমি বন্ধুদের নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলতে থাকেন। তিনি ভুল স্বীকার করেননি। বরং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এমতাবস্থায় আমি হয়রানি ও হুমকির প্রেক্ষিতে অনিরাপদ বোধ করছি এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন শিক্ষার্থী।

 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তানজীন আল আমিন বলেন, ‘আমি মেয়েটাকে কোনোভাবে হেনস্তা করিনি। সে সময় আমি প্রাকৃতিক ডাকের চাপে ছিলাম। তাই ভুল করে মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে গেছি।

 

‘ভুল বুঝতে পেরে আমি বের হয়ে পুরুষদের ওয়াশরুমে গেছি। পরে মেয়েটি এবং তার বন্ধুরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাকে এবং তার বন্ধুদের বারবার সরি বলেছি। আমি যখন হলে চলে আসি, তখন তারা আমাকে ফোন করেন। তখনও আমি বারবার সরি বলেছি। এটি মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। এখন আমি মেয়েটির সাথে সরাসরি দেখা করব। তিনি যেভাবে বলবেন, সেভাবে করব আমি।’

 

মদ্যপ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েটার হয়তো এ রকম মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২৩


সূত্র : নিউজবাংলা