টানা ১২ দিন কর্মবিরতির কারণে চা শ্রমিকদের মধ‍্যে এখন খাদ‍্য সংকট, সাপ্তাহিক রেশন,  এনজিওদের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারাসহ বিভিন্ন সমস‍্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে ন‍্যায‍্য মজুরী ৩শ’ টাকা না পেলে তাঁরা কর্মবিরতি থেকে সরে আসবেনা বলে জানান চা শ্রমিক ও নের্তৃবৃন্দরা। 

এদিকে দিন যতো গড়াচ্ছে প্রচন্ড বিক্ষোভ ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন চা শ্রমিকরা। মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে তাঁদের আন্দোলন ক্রমে জোরদার হচ্ছে। 


 

এখন তাঁরা শ্লোগান দিচ্ছে মালিক পক্ষের দালালরা, চা শ্রমিকের দালালরা সাবধান। ১৪৫ টাকা মজুরী মানবোনা। 

সরেজমিন শনিবার দুপুর শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগানে গিয়ে এই দৃশ‍্য দেখা যায়। গত রোববার সাপ্তাহিক ছুটি, সোমবার শোক দিবস ও শুক্রবার শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমি বাদ দিলে ২ ঘন্টা কর্মবিরতি ও পূর্নদিবস কর্মবিরতি মিলে আজ শনিবার ১০ দিনে পড়েছে তাঁদের এই কর্মবিরতি। 

ভাড়াউড়া বাগানের শকুন্তলা ফুলমালি, দীপালি ফুলমালি, পরমেশ্বর হাজরা সিলেটভিউকে জানান, সাপ্তাহিক রেশন, প্রত‍্যহ খাদ‍্য সংকট, মেডিক্যাল সংকটসহ বিভিন্ন সংকট দেখা দিয়েছে। 

এছাড়া ব্র‍্যাক, আশা, হিড, ব‍্যুরো বাংলাদেশ, উদ্দীপন, এফআইডিবিসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কিস্তি পরিশোধ করতে চাপ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন চা শ্রমিকরা। এঅবস্থায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

 

এদিকে যেসব চা শ্রমিকের কাছে জমানো টাকা নেই তারা পড়েছেন চরম কষ্টে। ঘরে কোন ধরনের খাদ‍্য নেই। একবেলা খেলে অন‍্যবেলা খেতে পারছেন না। আন্দোলন করতে গিয়ে এখন অভুক্তই থাকতে হচ্ছে অনেককে। 

বাগানের মেরী ভুইয়া সিলেটভিউকে বলেন, এফআইভিডিবি থেকে ১০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়েছিলাম। সপ্তাহে সাড়ে তিনশ, টাকা কিস্তি দিতে হয়। এখন কাজ নাই কিযে করি।

ময়না বুনার্জি সিলেটভিউকে জানান, আমি এফ আইভিডিবি থেকে ২০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়েছি। সপ্তাহে সাড়ে ৫শ' টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে চোখে অন্ধকার দেখতেছি। 

এদিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সিলেটভিউকে জানান, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে আরো ৫ টাকা মজুরী বৃদ্ধি করতে বলেছেন। আমি আজ বিকেলে চা শ্রমিক নের্তৃবৃন্দ ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবটি জানাবো। আশা করি চা শ্রমিক নের্তৃবৃন্দ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মবিরতি প্রত‍্যাহার করবেন বলে জেলা প্রশাসক জানান। 

 

খাইছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি পুষ্প কুমার কানু সিলেটভিউকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জেনেছি সেটা মানা সম্ভব নয়। আমরা ৩শ’ টাকার নীচে মানবোনা। প্রয়োজন হলে না খেয়ে মরবো। তবু ন‍্যায‍্য দাবি ছাড়বোনা। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাক/ইআ