দু’সপ্তাহব্যাপি চা শ্রমিকদের কর্মবিরতির অবসান হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে শ্রমিকরা। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক দুরত্ব তৈরী হয়ে গেছে।
সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, রাতের আধাঁরে শ্রমিক নেতারা বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে আতাঁত করে ১২০ টাকা মজুরী মেনে নিয়ে তাদের কাজে যোগদান করতে বলেছেন।
সাধারণ শ্রমিকদের দাবী নেতৃবৃন্দ সামনে এসে বলুক কাজে যোগদান করতে। কিস্তু নেতারা শ্রমিকদের সামনে আসছেন না।
এদিকে, সোমবার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান লস্করপুর ভ্যালির ২৩ টি চা বাগানের শ্রমিকদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করে আসার পর দূর্গা পূজার আগেই চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির ব্যাপারে ভার্চুয়ালী চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করে দেবেন। জেলা প্রশাসকের এই আশ্বাসেও চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন নি।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আবারো চান্দপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় বসেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত আলোচনা চললেও কোন অগ্রগতি হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোচনা চলছিল। তবে এর পুর্বে দুপুরে সাধারণ শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় বসেন ভ্যালির নেতৃবৃন্দ। তাতে দাবী আদায় না হলে অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজে কোন প্রতিশ্রুতি না দিলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খাইরুন আক্তার বলেন, আমরা সকাল থেকেই আন্দোলনে আছি। বিভিন্ন চা বাগান থেকে শ্রমিকরা আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে। আমরা ৩শ টাকা মজুরি না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য চা বাগানগুলো কাজ শুরু করলেও হবিগঞ্জের লস্করপুর ভেলীর ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা এখনো কাজে ফিরেনি। আমরা আশা করছি ভেলী ও পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আজ-কালের মধ্যেই শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে পারব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকারিয়া/এসডি-১৪




