হবিগঞ্জ শহরের পুরান মুন্সেফীর বাসিন্দা চৌধুরী মুরাদ। পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের তিন তলা বাসার ছাদে শখ করে গড়ে তুলেছেন ছাদ বাগান। তার ছাদ বাগানে সবজি, ফলদ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে । ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে সময় পেলেই  বেশিরভাগ সময় কাটে তার ছাদ কৃষিতে। তার ছাদ বাগানে উৎপাদিত ফল ও সবজি একদিকে যেমন নিজেদের নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির চাহিদা মেটায়, পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর মাঝেও বিতরণ করছেন। তার এই দৃষ্টি নন্দন ছাদ কৃষি দেখে অনেকেই উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের পুরান মুন্সেফী এলাকায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাই গোলাম আনিস চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ছাদ বাগান শুরু করেন চৌধুরী মুরাদ। বিভিন্ন খালি ড্রাম, প্লাষ্টিকের বড় কৌটা সিমেন্টের টবের মধ্যে তিনি ছাদ কৃষি করছেন। তাছাড়া বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই বাগানে লাগানো হয়েছে আম, কমলা, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম্বুরা, পেঁপে, ডালিম, করমচা, কদবেল, আতাফল, সফেদা, থাই পেয়ারা এবং মাল্টাসহ হরেক রকমের ফলের সমাহার। এছাড়াও মরুদেশের সুস্বাদু ফল ত্বীনও রয়েছে তার বাগানে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরণের সবজি, ঔষধি এবং বাহারি ফুলের রঙে সাজিয়ে তুলেছেন পুরো ছাদটি। এ যেন ছাদজুড়ে সবুজের সমারোহ। এ ছাদে উঠলে মনে হয়, এটি কোন এক দর্শণীয় স্থান। একটু দাঁড়িয়ে জুড়ে যায় প্রাণ। 
এদিকে মুরাদের ছাদ বাগানের এক কোণে রয়েছে দেশী মুরগী, কবুতর এবং দৃষ্টিনন্দন পাখির খামার। 


ব্যবসায়ী মুরাদ জানান, ছাদ কৃষিতে তেমন পরিশ্রম নেই। স্বল্প খরচেই ছাদে বাগান তৈরী করা যায়। তার বাগান থেকে উৎপাদিত ফল ও সবজি নিজেরা সংগ্রহ করার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন এবং  প্রতিবেশীকে বিতরণ করেছেন তিনি। ছাদ বাগানে রয়েছে থাই কাটিমন জাতের আম গাছ। এ গাছ থেকে বারোমাস আম পাওয়া যায়। রয়েছে বছরে দুইবার ফল দেওয়া আম গাছ। 


এসব গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন চৌধুরী মরাদ। তার স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী তাসমিনা খানম এবং তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আনাস নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করে আসছেন। এছাড়াও ছোটবড় প্লাস্টিকের মগ এবং কৌটায় বিশেষ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরণের ফুল লতাগুল্ম দিয়ে বাসার সিঁড়ির দুইপাশ এবং বেলকনি সাজিয়েছেন শিক্ষিকা তাসমিনা খানম। এদিকে মুরাদের দৃষ্টি নন্দন এই ছাদ কৃষি দেখে অনেকই উৎসাহী হয়ে বাসা বাড়িতে ছাদ বাগান করছেন। তাছাড়া তিনি মানুষদেরকে নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন কিভাবে ছাদ বাড়ান গড়ে তোলে পরিবারে ফল ও সবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। 


হবিগঞ্জের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাহবুবুল হক এ ছাদ বাগান পরিদর্শন করে বলেন,  চৌধুরী মুরাদের এ বাগান শুধু শখের বিষয় নয়, পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। ছাদ কৃষিতে বাগানের মাধ্যমে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকে। এছাড়া তাজা শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদাও মেটে। এসব কারনে বাড়ির ছাদে বাগান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির ছাদে বাগান করা হলে এটি প্রতিটি পরিবারের সবজি ও ফলমূলের চাহিদা মিটিয়ে ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে জানান মাহবুবুল হক। 


এদিকে মুরাদের দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন ছাদ বাগান করতে। প্রতিবেশিসহ দূরদূরান্ত থেকেও অনেকেই আসছেন পরামর্শ নিতে। এ ব্যাপারে নিয়মিত ছাদ বাগানীদের পরামর্শও দিচ্ছেন চৌধুরী মুরাদ। আর এ কারণে পুরো শহরজুড়ে সকলের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জসিম/ইআ-০৯