মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দীর্ঘ ১৯ দিন আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই অনেক চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে ফিরছেন।

 


শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে চা বাগান মালিক পক্ষের বৈঠক শেষে ১২০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা নির্ধারন করা হয়।

 

সরেজমিন বিভিন্ন মাধবপুর, ফুলবাড়ি, পাত্রখোলা, শ্রীগোবিন্দপুর, মদনমোহনপুর চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করছেন চা শ্রমিকরা। পদ্মছড়া, আলীনগর, শমশেরনগর চা বাগানসহ বেশ কয়েকটি চা বাগানে এখনো কাজে ফিরেনি শ্রমিকরা।

 

ফুলবাড়ি চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মনোরঞ্জন পাল বলেন, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যাইনি, সোমবার থেকে সবাই কাজ করবেন। শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের শ্রমিক জমিলা খাতুন, জুলেখা খাতুন ও হেমন্তী দেববংশী জানান, দীর্ঘদিন মজুরি বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছি, হাতে টাকা পয়সা নেই, খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। সাপ্তাহিক ছুটিরদিন কাজ করতে আসছি। তবে ৫০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি করায় চা শ্রমিকরা খুশি হয়েছেন বলে তারা জানান।

 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে সাধারণ চা শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছে। দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ভ্যালির অন্তর্গত ২৩টি চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দকেও শ্রমিকদের কাজে যোগদানের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, দেশের ১৬৭টি চা-বাগানে শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি। দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নতুন মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেন। এরপরে কাজে ফেরার আশ্বাস দেন চা-শ্রমিকরা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-১৬