ধর্ষক আব্দুল আহাদ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ৬ সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

 


অভিযুক্ত ব্যক্তি দিরাই পৌরসভার আনোয়ারপুর (উলুকান্দি) গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আহাদ (৩৮)।

 

বৃহস্পতিবার রাত ৭ টার দিকে পৌরসভার আনোয়ারপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

 

গ্রামবাসীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৭ টার দিকে আনোয়ারপুর গ্রামের শিশু মেয়ে (১০) তার বাড়ীর পাশের দোকানে যায় তার বাবার কাছ থেকে সিংগারা কিনার টাকা আনতে। কিন্তু তার পিতা টাকা না দিলে সে চলে আসে। পথে ওৎ পেতে থাকা আব্দুল আহাদ তখন শিশুকে সিংগারা কিনে দিব বলে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। শিশুটি ঘটনার পর কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীতে এসে এসব কথা তার মাকে জানায়।

 

গ্রামবাসী জানান, তাৎক্ষণিক তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে ঘটনার একদিন পরেও এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

 

এবিষয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রায়হান উদ্দিন জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ডা. সামি শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসা ও আলামত সংরক্ষণের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

 

তিনি আরো বলেন, মেয়েটির বয়স ১০ লেখানো হয়েছে তবে দেখে মনে হচ্ছে তার বয়স আরও কম হবে।

 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন, ঘটনা শোনেছি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

 

অন্যদিকে সরেজমিন আনোয়ারপুর গ্রামে গেলে দেখা যায়, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শিশুটির পিতার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন কিন্তু পরক্ষণে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ এসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এ বিষয়ে আর কেউ কথা বলেননি।

 

অভিযুক্ত আব্দুল আহাদের বাড়ী গিয়ে প্রতিবেশীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সে পলাতক আছে। আব্দুল আহাদ দুইটি বিয়ে করেছে তার প্রথম স্ত্রীর ৫ সন্তান, তার মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর এক সন্তান আছে, সে এখন সন্তানসম্ভবা।

 

আব্দুল আহাদের পিতা আছির উদ্দিন জানান, ‍‘ঘটনাটি শেষে করার পথে। কাউন্সিলর ও গ্রামের কয়েকজন মিলে ঘটনাটি শেষ করার পথে।’

 

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/এসডি-১৮