সিলেট মহানগরীর সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনা তৈরি করে ফাইল আকারে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গত ২১ জুন সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় মেয়র আরিফ এ ফাইল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন তিনি। এখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিলেট মহানগরীর টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করে দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশায় দিন কাটছে মেয়র আরিফের।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিসিকের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন- ‘আমি সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যা নিয়ে মনােযােগ আকর্ষণ করতে চাই। আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, এই আকস্মিক বন্যার কারণে সিলেট মহানগরবাসী অসহনীয় কষ্ট ও দুর্দশায় পড়েছিলেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব এখন সিলেট মহানগর এলাকায়ও পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দিনে প্রচন্ড তাপদাহ, আবার রাতে কিংবা দিনে স্বল্পসময়ে একটানা অস্বাভাবিক বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এমনকি- এবারের মৌসুমে সিলেট নগরীতে একরাতে স্বল্পসময়ে অর্থাৎ সবচেয়ে কম সময়ে বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ মহানগরবাসীর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যা থেকে পরিত্রাণের পথ আমাদের জরুরি ভিত্তিতে খুঁজতে হবে।
তিনি বলেন- মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি বার বার বলে আসছিলাম, জলাবদ্ধতা ও বন্যা- এই দুটো বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না। দুটো বিষয় আলাদা। এবার আকস্মিক বন্যার কারণে টানা কয়েকদিন মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার পানি নামতে পারেনি। মূলতঃ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। আপনারা জানেন, মহানগরীর ড্রেন ও ছড়ার পানি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সেই নদীও ড্রেজিং না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। বিপত্তি ঘটে তখনই যখন উজান থেকে ঢল এসে সুরমা নদীর পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই ছড়া ও খাল দিয়ে প্রবাহিত পানি সুরমা নদী হয়ে নামতে পারবে না। উল্টো সুরমা নদীর পানি মহানগরীর ছড়া দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করে ফেলে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্সটিটিউট অব ওয়ারটার মডেলিং কর্তৃপক্ষ ইতােমধ্যে এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নদী খনন করা, নিচু এলাকা যেমন শাহজালাল উপশহরে পানির পাম্পিং স্টেশন করা, ছড়ার সংযােগস্থলে সুইচ গেইট তৈরি, ড্রেনের প্রশস্ততা আরও বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। আপনারা জানেন, বন্যার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমি আমার বক্তব্যে সিলেট শহররক্ষা বাঁধের কথা বলেছি। জলকপাট দিয়ে ছড়াগুলাে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন দিয়ে আমার সব শুনেছেন। আমরা সরকারের একটা নির্ভরযােগ্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সিলেট শহরের একটা সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম। সেই রিপাের্ট আমরা সেদিন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছি। সুতরাং আমি মনে করি, এখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই বিষয়ে একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করা প্রয়ােজন।
উল্লেখ্য, সোমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ হাজার ৪০ কোটি ২০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ ব্যয় ধরে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ বাজেট ঘোষণা করেন।
বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স, বিভিন্ন খাতের কর ও ফি, ইজারা, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ভাড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন পার্ক থেকে টিকেট বিক্রিসহ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব খাত থেকে চলতি অর্থবছরে ১০১ কোটি ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র আরিফ। বাকি অর্থ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দাতা ও ঋণদানকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে, বাজেটে আয়ের সমপরিমান টাকা ব্যয়ের মধ্যে শুধু রাজস্ব খাতেই মোট ৯০ কোটি ৪২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু মোকাবেলা, পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প, গরুর হাট ও জবাইখানা নির্মাণ, খেলার মাঠ তৈরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, উপাসনালয় স্থাপন ও উন্নয়ন, টিকাদান কর্মসূচি, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রকল্প, বস্তি, রাস্তা-ব্রিজসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আয়ের সমপরিমান টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




