(প্রতীকী ছবি)
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি বেড়েছে ‘ঝাপ্টা পার্টি’র উৎপাত। গত দুই সপ্তাহে ভয়ঙ্কর ‘ঝাপ্টা পার্টি’ ৫টি মোটরসাইকেল চুরি ও ১০টি মোবাইল ফোন ছিনতাই করেছে এ চক্রের সদস্যরা। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নীল রংয়ের মোটরসাইকেলযোগে ‘ঝাপ্টা পার্টি’র সদস্যরা পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্কুলপড়ুয়া ছাত্রদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং টাকা-পয়সা ছিনিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে চরম আতঙ্কে আছেন আউশকান্দিবাসী।
এছাড়াও মোটরসাইকেল ও গাড়ি চুরির ঘটনা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত কয়েকদিনে ঘটেছে কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা। ‘ঝাপ্টা পার্টি’র সদস্যরা ঘটাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিভিন্ন অফিস, শপিং মল ও ব্যাংকের সামনে লোকজন মোটরসাইকেল রেখে ভেতরে প্রবেশ করে কাজ শেষে বেরিয়ে দেখছেন তাদের গাড়ি উধাও।
ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ৫টি মোটরসাইকেল ও ১টি গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ‘ঝাপ্টা পার্টি’র কবলে পড়ে গত কয়েক দিনে আউশকান্দি বাজার ও আশপাশ এলাকায় ১০টি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত সপ্তাহে উপজেলার আউশকান্দি মিঠাপুর গ্রামের খালেদ মিয়া মিঠাপুর আর্দশ গেইটের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় তার হাতে থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একই দিনে একই গ্রামের পঙ্কজ দেবনাথের হাতে থেকে আরেকটি ফোনও এভাবে খোয় যায়। এ দুই ঘটনার পরের দিন পআউশকান্দি মধ্যবাজারে অবস্থিত স্টার ইলেক্ট্রনিকের মালিক দেওতৈল গ্রামের জুবায়ের আহমেদ তার দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার সময় মধ্যেবাজার আসামাত্রই নীল রংয়ের একটি মোটরসাইকেলযোগে দুজন আরোহী হঠাৎ এসে তার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটি ছো মেরে নিয়ে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, মিনাজপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ বাইসাইকেলযোগে তার বাড়ি থেকে সৈয়দবাজার যাওয়ার পথে জালালপুর ইট ভাটার সামনে আসামাত্রই একটি মোটরসাইকেল তার বাইসাইকেলকে চাপা দিয়ে তার শার্টের সামনের পকেটে থাকা ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এসব ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবকরাও তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজ যাওয়া আসা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডালিম আহমেদ সিলেটভিউ-কে বলেন, ‘কয়েকটি এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে ২-৩ জন চোরকে আটকও করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খায়ের বলেন- এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / এস.বি.ডি / ডালিম




