এডুকেশন কেয়ার। সিলেটে এক যুগ ধরে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান।
২০১০ সালে সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারস্থ কাকলি শপিং সেন্টারে যাত্রা শুরু করা ‘এডুকেশন কেয়ার’ প্রতিষ্ঠার পর পরই পেয়েছে সাফল্যের ছোঁয়া। দীর্ঘ এই এক যুগে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ভিসা প্রসেসিং করে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বছরের প্রতি সেমিস্টারেই শতাধিক শিক্ষার্থীর ভিসা হয় ‘এডুকেশন কেয়ার’ থেকে।
প্রতিষ্ঠানটির সফলতা উপলক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর (শনিবার) নগরীর মির্জা জাংগালস্থ একটি অভিজাত হোটেলে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় ভিসাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মশালা। ‘এডুকেশন কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যকালে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন- আমরা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের ইউকে, আমেরিকা ও কানাডার ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ বিশ্বস্ততার সঙ্গে করে যাচ্ছি। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর ২০২২ সেশনে আমাদের মাধ্যমে কানাডায় আবেদনকৃত ৮৫ ভাগ এবং আমেরিকায় গমনেচ্ছুক শতভাগ শিক্ষার্থীর ভিসার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন- সম্প্রতি আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্দেহভাজন অভিযোগ’ এর প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। তবে সেই মামলার বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে গিয়েছি। আশাকরছি- সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রায় হওয়ার পর আমাদের স্বচ্ছ অবস্থান সিলেটবাসীর সামনে স্পষ্ট হবে।

‘এডুকেশন কেয়ার’র সফলতা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা ফায়িদ রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন- ফরেন অ্যাডুকেশন অ্যাডমিশন বা কনসালটিং ব্যবসায় নোমান একজন সফল ব্যবসায়ী এবং ইউকে, কানাডা ও ইউএসএ-সহ পৃথিবীর নানা দেশের ভিসা প্রসেসিংয়ের বিষয়ে তিনি একজন বিজ্ঞ এবং কানাডীয়ান হাই কমিশন অনুমোদিত দক্ষ পরামর্শক। ইমিগ্রেশন বিষয়ে অনেক দক্ষতা অর্জনের পর তিনি ‘এডুকেশন কেয়ার’ নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।
ফায়িদ রহমান আরও জানান- আব্দুল্লাহ আল নোমান দীর্ঘদিন কানাডাতে ছিলেন। কিছুদিন পূর্বে আমেরিকায় এক সংক্ষিপ্ত সফরে যান। সেখানে অবস্থানকালে ২০২২ সালের ২ আগস্ট রাতে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্থানীয় সময় পৌনে ১২টার দিকে নোমান ও তার সঙ্গে থাকা আমেরিকান বন্ধুর উপর অজ্ঞাত ৫ জন বন্দুকধারী হামলা করেন। এসময় হামলাকারীরা নোমানের কাছে থাকা নগদ ডলারসহ ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড এবং তার আমেরিকান বন্ধুর গাড়ি ছিনিয়ে নেয়। পর নিউইয়র্ক পুলিশকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানান নোমান। তবে হামলাকারীদের কাউকে এখন পর্যন্ত পুলিশ সনাক্ত করতে পারেনি।
অজ্ঞাত কারণে নোমান একটি মহলের রোষানলে পড়েছেন উল্লেখ করে ফায়িদ রহমান বলেন- কয়েক মাস আগে ঢাকার বনানীতে ‘এডুকেশন কেয়ার’র একটি শাখা অফিস করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে হয়তো কোনো একটি পক্ষ সুনাম ক্ষুন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




