সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর ১৪ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬০ জনসহ মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তাদের মধ্য থেকে ৩ পদে ১৩ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবে। আর প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বাজিমাত করতে মাঠ চষে বেড়ানো, গণসংযোগ, উঠানবৈঠকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এসবের পাশাপাশি বিশ্বনাথের প্রথম পৌরনির্বাচনে কালো টাকার খেলা শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন ভোটাররা। 


নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একক প্রার্থী থাকলেও স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপি নেতা ৩ জন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার-প্রচারণার প্রথমদিকে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা মেয়র পদের প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ না নিলেও নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন। 

নির্বাচনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মেয়র প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক প্রবাসী বিএনপি নেতা দেশে এসে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। অনেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্যও দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসী। জনশ্রুতি রয়েছে- অনেক প্রার্থী পর্দার আড়ালে নির্বাচনী খরচ কোটি-দেড় কোটি টাকা বলে ঘোষণা দিয়েছেন।  

এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার-প্রচারণা করার অভিযোগ প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকেই উঠেছে। দু-এক জন প্রার্থীকে জরিমানা করা হলেও বেশিরভাগ প্রার্থী একই অপরাধ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। রাত ৮টার দিকে প্রচার-প্রচারণার বন্ধ হওয়ার বিধি থাকলেও দেখা গেছে অনেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থনে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রায়ই দেখা যাচ্ছে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে মোটরসাইকেল শোডাউন হচ্ছে।

নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ শিব্বির আহমদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান (প্রবাসী), ‘হ্যাঙ্গার’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, ‘মোবাইল ফোন’ প্রতীক নিয়ে যুক্তরাজ্যের নিউহাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিন খান মুন্না (প্রবাসী), ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীক নিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন (প্রবাসী) এবং ‘চামচ’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সভাপতি তালুকদার ফয়জুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বনাথ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পুরাণ বাজারস্থ গরুহাটা এলাকার একজন ভোটার সিলেটভিউ-কে বলেন, দুপুর থেকে শুরু হয় মাইকিংয়ের যন্ত্রাণায়, চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না প্রার্থীদের মাইকিংয়ের যন্ত্রণায়। অপরদিকে, সময়-অসময়ে এসে একদিকে টাকার বান্ডিল দেখায়, আর অন্য দিকে ভোট চায়। নির্বাচনটা শেষ হলেই আমরা রক্ষা পাবো।

২নং ওয়ার্ডের নতুন বাজারস্থ টিএনটি রোড় এলাকার একজন নারী ভোটার সিলেটভিউ-কে বলেন, প্রচারণার শুরুর দিকে যারা মেয়র পদের যে মার্কায় ভোট চাইল, তারাই আবার দুদিন ধরে অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছে। আমরা এখন কোন দিকে যাব?

একই এলাকার আরেক ভোটার বলেন, ভোট (কাউন্সিলর প্রার্থীকে) দিলে সুদের টাকা মাফ পাব। তাকে ভোট না দিলে কি আর হয়? এছাড়া অন্যজন এসে দু-তিন হাজার টাকা সেধে ভোটের প্রতিশ্রুতি নিতে চায়। আমাদের পেটে ক্ষুধা আছে ভাই, এখন কী করবো বুঝতি পারছি না। ভালো হয়ে থাকারও উপায় নাই।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী আতাউর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার নির্বাচন শতভাগ অবাদ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন সিলেটভিউ-কে বলেন, উপযুক্ত প্রমাণসহ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / পি.বি.ও / ডি.আর