হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ। এ জেলার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে সিলেটে যেতে হতো। এতে অর্থ ও সময়ের ব্যয় হতো। দীর্ঘদিন ধরে এ জেলাবাসীর দাবি ছিলো ডাবর-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার এলাকায় জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের মধ্যখানে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু স্থাপনের। কিন্তু সুনামগঞ্জের অনেক রাজনীতিবিদ মহান জাতীয় সংসদে এমপি-মন্ত্রী হয়ে প্রতিনিধিত্ব করলেও আশ্বাস দিয়েও সেতু বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান হাওরবাসীর স্বপ্নের এ সেতুর প্রয়োজনীয়তা উপলব্দী করেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে প্রধানমন্ত্রীও সম্মতি জানান। ফলে এ প্রকল্পের অনুমোদন হলে ২০১৭ সালে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করে এমএম বিল্ডার্স এন্ড কোম্পানি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সেতুর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কাজ বন্ধ ছিল কিছুদিন। ফলে ২০২২ সালের আগষ্টে এসে কাজ শেষ হয়। পরবর্তীতে সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম এ সেতুর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। প্রথমে ২৯ অক্টোবর এ সেতুর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে এ সেতুর উদ্বোধনের তারিখ আগামী ৭ নভেম্বর (সোমবার) নির্ধারণ করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান- এ সেতু খুলে দেওয়ার পর দুর্ভোগ-ভোগান্তি কমবে সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষের। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের দুরত্ব কমবে ৫৫ কিলোমিটার, সময় বাঁচবে প্রায় আড়াই ঘন্টার মতো। সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পরই প্রতিদিন কুশিয়ারার দুই পাড়ে লেগে থাকে দর্শনার্থীদের ভীড়। অনেকেই এ সেতুটিকে হাওরাঞ্চলের পদ্মাসেতু বলে থাকেন।
সেতুটি যেমন সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু তেমনি দৃষ্টিনন্দনও। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সুনামগঞ্জবাসী।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ৭ নভেম্বর সারাদেশের ১০০টি সেতু উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রাণীগঞ্জ সেতুসহ সুনামগঞ্জের ১৭টি সেতু উদ্বোধন হবে। এতে সুনামগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার কমবে।
এরআগে- ২০০৩ সালে ধলাই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু ছিল কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতু (দীর্ঘ ৪৩৪.৩৫ মিটার)। উদ্বোধন হওয়া রানীগঞ্জ সেতু দৈর্ঘ্যরে দিক দিয়ে এ সেতুরও রেকর্ড ভাঙ্গলো।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মুন্না




