সিলেটে আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ইজতেমার আয়োজন করছে অরাজনৈতিক ধর্মীয় এ সংগঠন।

 


দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজের পর শুরু হবে ইজতেমা। পরদিন (১৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা সংগঠনের আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমাটি শেষ হবে।

 

এদিকে, ইজতেমার একদিন পরই অর্থাৎ- ১৯ নভেম্বর সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। দলটির চেয়ারপার্স খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। গণসমাবেশে ৪ লক্ষ মানুষে সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

 

এ অবস্থায় গণসমাবেশকে ঘিরে যদি কোনো ‘প্রতিবন্ধকতা’ সৃষ্টি হয় তবে সেটি এড়াতে ইজতেমাকে ‘ঢাল হিসেবে’ ব্যবহার করতে পারেন বিএনপির নেতাকর্মীরা- এমনটা মনে করছেন রাজনীতি সচেতন মহল। তবে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন ইজতেমা ও গণসমাবেশের আয়োজকরা।

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম কর্তৃপক্ষ বলছেন, ইজতেমায় যারা গাড়ি বহর নিয়ে আসবেন তারা নির্দিষ্ট ব্যনার ব্যবহার করবেন। এছাড়াও গাড়িতে সিরিয়াল বা কোড নাম্বার দেওয়া থাকবে। সুতরাং ইজতেমার গাড়িবহরকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

 

অপরদিকে সিলেট বিএনপি বলছে- সব বাধা উপেক্ষা করে গণসমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীসহ লাখো সাধারণ মানুষের ঢল নামবে। আমাদের নেতাকর্মীরা দলীয় নির্দেশনামতো নিজেদের মতো করেই গণসমাবেশে যোগদান করবে।

‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়-  উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ শাইখুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রাহ.) প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক এ সংগঠনের আসন্ন ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটবে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ও মুরুব্বি আলেম এবং দ্বিনের দাঈরা নসিহত (আলোচনা) করবেন। ১৭ নভেম্বর ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হবে এ ইজতেমা। পরদিন (১৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা সংগঠনের আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমাটি শেষ হবে।

 

পথচলার ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সিলেটে দুই দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল সাজানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়া ও সব সুযোগ-সুবিধাসহ প্রায় ৯০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ নভেম্বর ফজরের নামাজের পর ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে এদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বিন বয়ান পেশ করবেন। পরদিন (শুক্রবার) ভোররাতে জিকির শুরু হবে। ফজরের নামাজ শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বয়ান রাখবেন। এদিন জুমার নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। দুই দিনব্যাপী ইজতেমায় বয়ান রাখবেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সায়্যিদ মাহমুদ মাদানী ও মাওলানা সাইয়্যিদ আশহাদ রশীদিসহ দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেম।’

 

এদিকে, ইজতেমার পরদিনই অর্থাৎ- ১৯ নভেম্বর সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। দলটির চেয়ারপার্স খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় রাজনীতি সচেতন মহল মনে করছে- বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে যদি কোনো ‘ধর্মঘট কিংবা প্রতিবন্ধকতা’ সৃষ্টি হয় তবে সেটি এড়াতে ইজতেমাকে ‘ঢাল হিসেবে’ ব্যবহার করতে পারেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ইজতেমায় আসার নাম করে গাড়িবহর নিয়ে ইজতেমায় এসে আখেরি মুনাজাতের শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা একদিন আগেই গণসমাবেশে চলে আসবেন।

তবে এমন কোনা ঘটনা ঘটবে না বলে মনে করছেন ইজতেমার আয়োজকরা।

এ বিষয়ে রবিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা শাব্বীর আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, ‘মূলত ইজতেমার মানুষ যারা তারা বৃহস্পতিবারের আগেই মাঠে এসে পৌঁছে যাবেন। সেখানে নির্দিষ্ট খিত্তায় (জায়গায়) মুসল্লিরা থাকবেন। আমাদের সংগঠনের মানুষ যারা তারা তো পরিচিত। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক যারা থাকবেন তাদের কাছে কোন এলাকা থেকে কারা আসছেন সে তালিকা থাকবে। এখানে ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বহিরাগত কেউ থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া ইজতেমায় যারা গাড়ি বহর নিয়ে আসবেন তারা নির্দিষ্ট ব্যানার ব্যবহার করবেন এবং প্রত্যেকটি গাড়িতে কোড বা সিরিয়াল নাম্বার দেওয়া থাকবে। সুতরাং ইজতেমার গাড়িবহরকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সর্বোপরি এ বিষয়ে আমাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।’

 

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটভিউ-কে এ বিষয়ে বলেন, ‘আশা করছি অন্যান্য জায়গার মতো সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না। কারণ সিলেটে রাজনৈতিক সম্প্রীতি এখনও বজায় আছে। আর যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ও তবে সব বাঁধা উপেক্ষা করে গণসমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীসহ লাখো সাধারণ মানুষের ঢল নামবে। আমাদের নেতাকর্মীরা দলীয় নির্দেশনামতো নিজেদের মতো করেই গণসমাবেশে যোগদান করবে। আঞ্জুমানে হেফাজতের ইজতেমা আমাদের জন্য ক্ষতিকরও নয়, লাভজনকও নয়। তারা তাদের অরাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে, আমরা আমাদেরটা।’

অপরদিকে, সিলেটে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব- মিডিয়া) সুদ্বীপ দাস রবিবার বিকেলে সিলেটভিউ-কে বলেন, ইজতেমার বিষয়টি আয়োজকরা আমাদের অবগত করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটে চলমান রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনে কঠোর পদপক্ষে নেওয়া হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর/এসডি-১৭