ছবি : আহমেদ রুবেল
ভোরের মোহময় আকাশটা ঠিক যখন জাগতে শুরু করবে, মহান রবের তরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ার খানিক পরই হাজারো মুসল্লি তখন মিহি ঠান্ডা বাতাসে শরীর বিছিয়ে ঠায় বসে যাবেন রাহমাতি এক শামিয়ানের নিচে। কপর্দকশূন্য নশ্বর এ পৃথিবীর সব জঞ্জালকে বহু দূরে ঠেলে অতিথি হবেন আত্মশুদ্ধির মাহফিলের।
এ আয়োজন থেকে ফিরে হয়তো অনেকের সম্পর্ক বাড়বে বায়তুল্লাহ’র সঙ্গে যুক্ত ঘরগুলোর সঙ্গে। অনেকের হয়তো আর পা পড়বে না অন্ধকার পথে, খুঁজে পাবেন তারা ‘গারে হেরা’র পথ।
বলা হচ্ছে- উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ শাইখুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রাহ.) প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ আয়োজিত ইজতেমার কথা। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ফজরের নামাজের পরপরই সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে শুরু হবে এ ইজতেমা। শুক্রবার সকাল ১০টায় আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ‘আত্মশুদ্ধি’র এই আয়োজন শেষ হবে।
ঘরে ঘরে দ্বিনের দাওয়াত, সমাজ সংস্কার ও প্রত্যেককে সোনার মানুষে পরিণত করার মিশন নিয়ে পথচলা ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে এ ইজতেমার।
আজ ফজরের নামাজের পর ১ম অধিবেশনে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাইদুর রহমান বর্ণভীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বয়ান পেশ করবেন সংগঠনের আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী। তারপর ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বরেণ্য উলামা-মাশায়েখ বক্তব্য রাখবেন।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র এই ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার থেকেই উপ-কমিটির নেতৃবৃন্দ ইজতেমা মাঠে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।
ছয় দফা কর্মসূচি নিয়ে ১৯৪৪ সালে ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠা। দাবিগুলো হচ্ছে- ইসলামের দাওয়াত, সংগঠন, সুশিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সৃষ্টিজগতের সেবা, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ। এসব বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’। পথচলার ৭৭ বছর পূর্তিতে সিলেটে দুই দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। নির্ধারিত তারিখের দুই দিন আগেই ইজতেমা স্থল সাজানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়া ও সব সুযোগ-সুবিধাসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ইজতেমার আয়োজন কয়েকদিন পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিলো। বিএনপির সমাবেশের সময়ে ইজতেমা আয়োজনে অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কা থেকে এমন অনুরোধ করা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে পুলিশের এ আপত্তির জের ধরে মঙ্গলবার রাত থেকে সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেন। পরদিন (বুধবার) সকাল থেকেও আরও মুসল্লি এসে জড়ো হন ইজতেমা মাঠে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম’র নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. নিশারুল আরিফের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশের পরামর্শে সবার সম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ইজতেমা শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আয়োজকরাও এ সময়ের মধ্যে ইজতেমা সমাপ্ত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে আয়োজক সংগঠনের আমির মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী বলেন, আমরা সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছি। বিদেশের মেহমান আলেমরাও আসতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় ইজতেমা পেছানো সম্ভব নয়। তবে আমরা আইন মান্য করি। এখানে কেউ বিশৃঙ্খলা করবে না। এখান থেকে কেউ বিএনপির সমাবেশেও যাবে না।
সংগঠনের আমিরের এমন আশ্বাসের ফলে পুলিশ প্রশাসন অনেকটা শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ইজতেমা শেষ করার শর্তে আয়োজন বাস্তবায়নের অনুমতি দেয়।
বুধবার রাতে ইজতেমা মাঠে গিয়ে দেখা যায়- মাঠের প্রায় অর্ধেক এরই মধ্যে ভরে গেছে মুসল্লিতে। মুসল্লিরা জানান, মাগরিবের নামাজের পরে মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী বয়ান হয়। এশার নামাজের পরে মুসল্লিদের রাতের বিশ্রামের জন্য ঘোষণা দেন আয়োজকরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




