খুন হওয়া সিলেট জেলা বিএনপি নেতা কামাল (উপরে) ও (নিচে) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘ছাত্রলীগ নেতা’ সম্রাট।

‘ছাত্রলীগ নেতা’র ছুরিকাঘাতে সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল খুন হয়েছেন গত ৬ নভেম্বর রাতে। ওই রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের সামনে থেকে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেই মিছিল থেকে মহানগরের রিকাবীবাজার ও আশপাশ এলাকায় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে টানানো ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড ভাঙচুর করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হন এবং জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে রিকাবীবাজার ও স্টেডিয়াম এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন। আওয়ামী লীগের ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনায় পরে ছাত্রদলের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় মামলাও দায়ের করে আওয়ামী লীগ। 


তবে ওই রাতের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কামাল হত্যার ঘটনায় কোনো কর্মসূচি দেয়নি সিলেট জেলা কিংবা মহানগর বিএনপি। এছাড়াও গত শনিবারের বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে একজন মাত্র কেন্দ্রীয় নেতা খুন হওয়া কামালকে স্মরণ করলেও আর কোনো স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় নেতা তাঁকে স্মরণ করেননি। গণসমাবেশের ব্যস্ততার পর ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সিলেট বিএনপি কামাল খুনের ঘটনায় নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এ নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের তৃণমূল অনেক নেতাকর্মীর মাঝে খানিকটা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জানান- দলীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে খুনটি হয়নি। হয়েছে আ ফ ম কামালের ব্যবসায়ীক বা ব্যক্তিগত কারণে। তাই সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে কোনো আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষণা করছেন না। বিষয়টি খুবই দুঃখ ও হতাশাজনক। কারণ বিষয় যাই হোক- কামাল তো খুন হয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে। নেতৃবৃন্দের উচিৎ ছিলো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা। 

তবে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এ বিষয়ে সিলেটভিউ-কে জানিয়েছেন- এক সপ্তাহের মধ্যে এ ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ৬ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে মহানগরের বড়বাজার এলাকায় প্রাইভেট কারের ভেতরে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল ছুরিকাঘাতে খুন হন। পরে পুলিশ জানায়- মোটরসাইকেলে করে খুনিরা আ ফ ম কামালের পিছু নিয়েছিলেন। পরে বড়বাজার এলাকায় দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় তাঁকে। ছুরিকাঘাতের পর স্থানীয়রা কামালকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর রাতে কামালের বড় ভাই ময়নুল হক বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় আজিজুর রহমান সম্রাট নামের এক ‘ছাত্রলীগ নেতাকে’ প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামোল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরে দিন রাতেই এক আসামিকে সুনামগঞ্জ থেকে এবং এর একদিন পর অন্য দুজনকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। পরে তাদের ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

এই তিন আসামি হলেন- সিলেটের বিমানবন্দর থানার বাদামবাগিচা আবাসিক এলাকার মিশু আহমদ (২৬), বড়বাজার গোয়াইপাড়ার মনা মিয়া (২৫) ও একই এলাকার কুটি মিয়া (২৪)। এর মধ্যে মিশু মামলার এজাহারভুক্ত ৪, মনা ৬ ও কুটি ৫ নম্বর আসামি।

তবে বিএনপি নেতা কামাল হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ‘ছাত্রলীগ নেতা’ সম্রাটসহ অন্য আসামিরা এখনও অধরা। ‘খুনি’ সম্রাটের বাড়ি সিলেটের লামাকাজি এলাকায়। তবে তিনি মহানগরের আম্বরখানা মনিপুরী এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটে থাকতেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম