সিলেটে স্টেশনারি পণ্যের দামেও যেন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। স্টেশনারির এমন কোনো পণ্য নেই যেটির দাম বাড়েনি। প্রত্যেক পণ্যের পাইকারি দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এতে সিলেটে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে বিক্রেতাদের।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখানে লাভবান হয়ে থাকলে বড় বড় কোম্পানি লাভবান হচ্ছে। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীদের লাভ আগের চেয়ে আরও কমেছে। দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পণ্যের সংখ্যাও কমে গেছে।
রবিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজার এলাকার স্টেশনারি দোকান ও লাইব্রেরিগুলোতে ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
স্টেশনারি ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রির দোকানগুলোতে ৫০ টাকার ব্যবহারিক খাতা এখন ৬০ টাকা, ৭০ টাকার খাতা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা, ১২০ পৃষ্ঠার খাতা ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, কালার পেপার রিম ৩৪০ থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রেজিস্টার খাতা ৩০০ পৃষ্ঠা ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, ৫০০ পৃষ্ঠা ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
মিনি ফাইল প্রতিটি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা। জিপার ফাইল ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা। কলমের দাম ডজন প্রতি বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। মার্কার পেন প্রতি পিস ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। সাধারণ ক্যালকুলেটর ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা, জ্যামিতি বক্স ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিক ও স্টিলের স্কেল ডজনপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। রাবার ডজনপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
একটি স্টেশনারি দোকানের বিক্রেতা জানান, কাগজের দাম অনেক আগে থেকেই বেড়ে আসছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর হঠাৎ করেই কাগজের দাম আগের থেকে আরও বেশি বেড়ে গেছে। আগে অফসেট কাগজ রিম প্রতি কেনা হতো ২৩০ টাকা। এখন সেটা ৩৭০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কাগজের দাম বেড়ে গেলে বইয়ের দাম এমনিতেই বেড়ে যায়।
ওই ব্যবসায়ী আরও বলেন, আগে যে বই ৪৮০ টাকায় বিক্রি করতাম এখন সেটা ৫৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এমনিভাবে কলমের দামও ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকায় ডজনপ্রতি বেড়ে গেছে। ফাইল প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্যামিতি বক্সের দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। এমনিভাবে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।
বিক্রেতারা জানান, সব পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রত্যেক পণ্য প্রতি ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কালারিং কাগজের প্যাকেট প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে দাম বেড়েছে। আর এখানে লাভবান হচ্ছে ডিলাররা। কিন্তু আমাদের পণ্যের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর পণ্যের সংখ্যা ধরে রাখতে হলে আমাদের পুঁজির পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে।
তারা আরও জাননা, আগে কালার কাগজ রিমপ্রতি ৩৪০ টাকা কেনা হতো। এখন সেটা ৪৬০ টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা হয়েছে। বই প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে। এখানে বড় বড় কোম্পানিগুলো লাভবান। বরাবরই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকি।
দিস্তা কাগজ যেটা ৩৫০ টাকা কিনে আনতাম সেটা এখন ৪৪৫ টাকায় কিনে আনতে হয়। এমন কোনো পণ্য নেই যেটার দাম বাড়েনি। আর এই দাম বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। সাধারণ ক্রেতারা এসে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা যেখান থেকে এসব পণ্য কিনি তাদের কিছু বলতে পারি না। শিক্ষা উপকরণের সমস্ত জিনিস যেমন- পিন থেকে শুরু করে খাম ও আঠার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে কাগজটা ২০ টাকা দিস্তা বিক্রি করতাম সেটা এখন ৩০ টাকা দিস্তা বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যে রিমটা ২৪০ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ৪৩০ টাকা কিনতে হচ্ছে। আগে যে খাতা ৬০ টাকায় বিক্রি করতাম সেটা এখন ৯০ টাকা কিনতে হচ্ছে। এভাবে প্রত্যেকটি জিনিসের মূল্য পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে।
সাইনপেন ৪২০ টাকা ডজন কিনতাম আজকে সেটা ৭২০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এখন যে বইগুলো ১৩০ টাকায় কিনতে পারতাম সেটা আগামী জানুয়ারিতে কত টাকায় কিনতে হবে জানি না। পাঁচ টাকার খামগুলো মনে হয় কিছুদিন পর ১০ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। শিক্ষা সামগ্রীর দামে এই আগুন কবে নিভবে আমরা জানি না।
এদিকে, সিলেটের নিম্ন আয়ের মানুষের দাবি- অন্তত শিক্ষা সামগ্রীর মূল্য যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডালিম /এসডি-২২




