এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গত ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরুহয় অনলাইনের আবেদন। যা শেষ হয় ১৫ ডিসেম্বর।
নিয়ম অনুযায়ী- অনলাইনে পছন্দের ১০টি কলেজে আবেদন করতে হয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। কিন্তু সিলেটে পছন্দ করার মতো ভালো দশটি কলেজই নেই বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেটসহ সারাদেশে শুরু হবে একাদশ শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রম। ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ক্লাস। সিলেট বিভাগে কয়েকটি কলেজ বাদে বাকি কলেজগুলোতে চান্স পেলে মানহীন কলেজে ভর্তি হতে হবে বলে শঙ্কা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯১ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৫৬৫ জন এবং জিপিএ-৪ পেয়েছে ২৩ হাজার ৯৭০ জন। ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকলেও ভাল কলেজে সুযোগ পাওয়া নিয়েই রীতিমতো দুশ্চিন্তায় আছেন ভাল রেজাল্ট করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মানসম্মত হিসেবে পরিচিত সিলেট বিভাগের ১০টি কলেজের আসন সীমিত থাকায় কাঙ্খিত কলেজে ভর্তি নিয়ে চলছে উদ্বেগ। জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আসন সংকট না থাকলেও ভালো কলেজে আসন সংখ্যা সীমিত।
সিলেটে মানসম্পন্ন কলেজ বলতে সিলেট এমসি কলেজ, সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ। এসব কলেজে আসন সংখ্যা রয়েছে দশ হাজারের কিছু বেশি, যা শিক্ষার্থীর চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন চেন্স না পাবার, একই সাথে চান্স না পেলে পরবর্তীতে মানসম্মত কলেজ না পাবার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন বেশি বিড়ম্বনায়। এ বিভাগে উত্তীর্ণ ২৩ হাজার ২৩০ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৮৯৪ জন এবং জিপিএ-৪ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৫১ জন। সিলেটে ভালো কলেজগুলোয় বিজ্ঞান বিভাগে আসন রয়েছে তিন হাজারের মত। এ বিভাগে ভালো ফল করেও প্রত্যাশিত কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দক্ষিন সুরমার লালাবাজার এলাকার জেসমিন বেগন এবার এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার ইচ্ছা এমসি কলেজে ভর্তি হবে। তবে এমসি কলেজের আসন সংখ্যা কম থাকায় তার আশঙ্কা এত শিক্ষার্থীর ভীরে আদোও কি চান্স পাবেন কি না। তিনি বলেন, চান্স না পেলে ভাল রেজাল্ট দিয়ে কি হবে। একই সংঙ্কা তার অভিভাবকের।
ভর্তি সমস্যা দূর করতে শিক্ষার্থীরা কলেজগুলো আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানালেও কলেজের অধ্যক্ষরা বলছেন- আসন বাড়িয়ে নয়, বাড়াতে হবে মান সম্পন্ন কলেজের সংখ্যা। চাহিদার সঙ্গে সিলেটের ভালো কলেজগুলোর আসনের কোনো সংগতি নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাশিত ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন নামিদামি ও প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন বৃদ্ধি করা। সিলেটে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না দিয়ে মানসম্মত কলেজগুলোয় আসন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সিলেট এম সি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর আশরাফুল কবীর বলেন, ঐহিত্যবাহী কলেজ হওয়া অনেকেই পছন্দ এই এমসি কলেজ। তবে নিদ্রিষ্ট পরিমান আসন সংখ্যা থাকায় এবং ভাল রেজাল্ট প্রাধান্য দেয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী চান্স পান না। কলেজে আসন সংখ্যা বাড়ানো সুযোগই নেই। মূলত আসন সংখ্যা বাড়ানো বিষটি শিক্ষা বোর্ডে উপর। বোর্ডে চাইলে আসন সংখ্যা বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন কোটা যারা আছেন তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ঠ আসন রয়েছে। তবে লিমিটেড কিছু কলেজে ভর্তি হবার চেষ্টা করাটা যৌক্তিক না। একজন ভাল শিক্ষার্থী যেকোন কলেজ থেকে ভাল রেজাল্ট করতে পারবে। আমার প্রায়ই বিভিন্ন কলেজের কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করছি যাতে তাদের শিক্ষার মান উন্নত করেন। একই সাথে বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। যেহুতু সিলেট মানবিক বিভাগে রেজাল খারাপ হচ্ছে, সেহেতু বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগে আসন সংখ্যা বাড়ানোর দরকার।
তিনি মনে করেন বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে পড়াতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে। আর এটি শুরু হতে হবে নবম শ্রেণি থেকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িতরা যদি একটু দয়িত্বশীল হন এবং কলেজগুলোর পরিবেশ ভালো করেন তাহলে এমনিতেই শিক্ষার মান ভালো হবে একই সাথে শিক্ষার্থীরাও সেসব কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহ প্রকাশ করবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডি.আর




