সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের লামাদুমকা গ্রামের নলিনী কান্ত দাস ও অবিভক্ত লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মহিলা সদস্য সাবিত্রী বালার পুত্র সুবাস দাস। গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের লামাদুমকা সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুবাস দাসের ছাত্র জীবন শুরু হয়। একই ইউনিয়নের মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে।

 


জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০১ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক পদ প্রাপ্তীর মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে উপজেলা ছাত্র লীগের দপ্তর সম্পাদক পদে মনোনীত হন সুবাস দাস। সে সময়ে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়ে কারাভোগ করেন সুবাস। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ডৌবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার কার্যকরী কমিটির নির্বাহী সদস্য মনোনীত হন সুবাস দাস। তৃণমূল থেকে তিল তিল করে উঠে আসা সুবাস দাস ২০২১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক পেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে তুমুল প্রতিদ্বন্ধীতা করে দলীয় কোন্দলের কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তারপরও তিনি রাজনৈতিক হাল ছাড়েননি। তিনি বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি ও স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় অসহায় মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে দাড়ান। সুবাস দাস ২০২২ সালে সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ৯৪টি ভোটের মধ্যে অন্যান্য ৪ জন প্রতিদ্বন্ধীদের পেছনে ফেলে ৬২ ভোট পেয়ে সর্ব কনিষ্ঠ হিসেবে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে এশিয়ান টেলিভিশন গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি, প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য । গোয়াইনঘাটের সংবাদকর্মীদের প্রানের প্রতিষ্টান গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক।

 

এছাড়াও তিনি গোয়াইনঘাটের শিক্ষা ক্ষেত্রে রাখছেন অসামান্য অবদান। নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যাবস্থাকে এগিয়ে নিতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সততা, নিষ্ঠা, মেধা, সক্ষমতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার মনমানসিকতাই পার নিজ উপজেলার শিক্ষা ব্যাবস্থায় অবদান রাখার মতো মহৎকর্ম করার। তিনি ইতিপূর্বে অত্যন্ত সফলতার সহিত ডৌবাড়ী ইউনিয়নের লামাদুমকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া সফলতার সাথে বারবার হাকুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয়,হাকুর বাজার উচ্চবিদ্যালয়,মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ছাড়াও তিনি সিলেট রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য রয়েছেন। আজ শনিবার (৩১ ডিসেম্বর)গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ নানামুখী উন্নয়নে তিনি ডৌবাড়ী ইউনিয়নের জনগণের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি ও ভয়াল বন্যয় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তিনি মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব ও সংকট মোকাবেলায় দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ। এব্যাপারে সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য সুবাস দাস বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির ভাগ্যোন্নয়নে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। শিক্ষা ছাড়া জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়, তা তিনি অনুধাবন করেছিলেন এবং একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সরকারিকরণ, সংবিধানে শিক্ষা বাধ্যতামূলক, শিক্ষা কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। শিক্ষার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল বঙ্গবন্ধুর। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময়েও তিনি কার্যকরী সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

 

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে জনমুখী ও সম্প্রসারণ করতে কোনো কৃপণতা করেননি। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার মধ্য দিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ। এরই আলোকে সরকারের মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি মহোদয় গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় শিক্ষা ব্যাবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন করে সীমান্ত জনপদের মানুষকে সরকারের উন্নয়নের মুলস্রতের সাথে সামিল করেছেন। আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/মতিন/নাজাত-০৩