ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিয়মিত সাফল্য পেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বরাবরই ব্যর্থতার বৃত্তে খাবি খাচ্ছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। ২০১৯-২০ মৌসুমে রানারআপ হওয়াই এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ফরাসি ক্লাবটির সর্বোচ্চ সাফল্য। ২০২২-২৩ মৌসুমেও পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন ধাক্কা খেয়েছে নকআউট পর্বের শুরুতেই।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পার্ক দেস প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে ০-১ গোলে হেরেছে প্যারিসিয়ানরা। বর্তমানে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা না থাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য আগামী ৮ মার্চ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগে ন্যুনতম দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে পিএসজিকে।
কিন্তু বিগত ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান দেখলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পা রাখার স্বপ্ন বাদ দিতে পারে পিএসজি। কারণ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হারের শিকার হয়ে কখনোই পরের পর্বে যেতে পারেনি প্যারিসিয়ানরা।
ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা মিস্টার চিপ (অ্যালেক্সিস) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানায়, এর আগে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বের বিভিন্ন রাউন্ডে প্রথম লেগে ৬ বার ঘরের মাঠে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে পিএসজি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবারই বিদায় নিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি।
২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পার্ক দেস প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল পিএসজি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে ০-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা।
২০১৪-১৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে সেবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার কাছে ঘরের মাঠে পিএসজি ১-৩ গোলে পরাজিত হয়েছিল। ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগেও ০-২ গোলে হেরে যায় প্যারিসিয়ানরা।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগেও একই চিত্র। সেবার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে এসি মিলানের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল পিএসজি। সান সিরোয় ফিরতি লেগেও রোজোনারিদের কাছে ০-২ গোলের হারে বিদায় নেয় ফরাসি ক্লাবটি।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে পারেনি পিএসজি। সেবার তাদের খেলতে হয়েছিল উয়েফা কাপে (বর্তমান ইউরোপা লিগ)। প্রতিযোগিতা ভিন্ন হলেও পিএসজির পরিণতি একই ছিল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রথম লেগে স্বাগতিক হিসেবে ভিডিওটোনের কাছে ২-৪ গোলে হেরেছিল পিএসজি। হাঙ্গেরিয়ান ক্লাবটির মাঠে গিয়ে ফিরতি লেগও জিততে পারেনি তারা।
একই অবস্থা ছিল ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের উয়েফা কাপেও। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে জুভেন্টাসের কাছে ০-১ গোলে হারতে হয়েছিল পিএসজিকে। ইতালিতে গিয়ে ফিরতি লেগেও তুরিনের বুড়ির বিপক্ষে জিততে পারেনি প্যারিসের ক্লাবটি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত-১৬
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন




