সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রতির দেশ। সুদূর অতীতে থেকেই সিলেট শান্তির নগরী হিসেবে বিশে^ পরিচিত। এই নগরীর মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। শান্তির সিলেটে আমাদের এই সম্প্রীতি কেউ যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপার সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের সেবা কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, রামকৃষ্ণ মিশন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। তিনি রামকৃষ্ণ মিশন সিলেটের উদ্যোগে প্রতি বছর শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অব্যাহত রাখার আহবান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূর থেকে পড়লেখায় মনোযোগ হয়ে প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে নিজে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৮৮তম আবির্ভাব তিথি ও বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের ৪ দিনব্যাপী ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার ১ম দিনে ‘রামকৃষ্ণ মিশনের সেবাধর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে সূচিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক বিজিত কুমার দে। রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কার্যকরী কমিটির সদস্য অরুপ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রমা বিজয় সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-আজাদ। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবেন ডাঃ কল্লোল বিজয় কর ও বিকাশ রঞ্জন বিশ^াস। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কার্যকরী কমিটির সহ সম্পাদক এডভোকেট সনতু দাস। শুরুতে বৈদিক মুক্তপাঠ ও ফুল দিয়ে অতিথি বরণ করে নেয় বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী ভবনের ছাত্রবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ১০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪০ জন, এম.সি কলেজের ১০ জন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন মোট ৬৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেন প্রধান অতিথি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সহ অতিথিবৃন্দ।
পরে রাত ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও হিমাংশ বিশ্বার এর পরিবেশনায় বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৫টায় মঙ্গলারতি ও স্তোত্র পাঠ, সকাল ৭টায় শ্রীরামকৃষ্ণ লীলা প্রসঙ্গ, গীতা ও চণ্ডীপাঠ, সকাল ৮টায় ঠাকুরের বিশেষ পূজা, হোম ও পরে মহোৎসব। সকাল সাড়ে ৯টায় হেমেন্দ্র সূত্রধরের পরিবেশনায় যন্ত্র সঙ্গীত, সকাল সাড়ে ১০টায় আলোকিত কথামৃত পাঠচক্র, করেরপাড়া সিলেটের পরিবেশনায় সঙ্গীতাঞ্জলি, দুপুর ১২টায় সিলেটের দেবল দাসের পরিচালনায় লীলাকীর্তন, বেলা ২টায় গোয়ালাবাজারের পঙ্কজ দেব’র পরিবেশনায় বাউলগান, বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুর্ধ ১২ বছরের শিশু কিশোরদের সঙ্গীত ও আবৃত্তি, বিকাল সাড়ে ৪টায় সুবিনয় রায়ের পরিচালনায় সঙ্গীতালেখ্য অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/পল্লব-১৯




