ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের দুই ছাত্রীকে উত্যক্ত করার জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হন অন্ততঃ ৩০ জন। ঘটনার একদিন পর পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে আটক করা হয়নি। তাছাড়া নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে ‘আগুনে পানি ঢালার’ ভূমিকায় রয়েছে।


 ধরে রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের অদূরস্থ সুমাইয়া কমপ্লেক্স নামক মার্কেটের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮-১০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহত হয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মাঈন উদ্দিন খান। তিনি বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসময় দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের হামলায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজে অধ্যরনরত কয়েকজন ছাত্রী প্রয়োজনবশতঃ চন্ডিপুলের ফুলকলি মিষ্টির দোকানে গেলে আসার সময় স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক তাদের উদ্দেশ্য অশালীন কথা বলেন এবং ইভটিজিং করেন। ওই অটোরিকশা চালক নর্থ ইস্ট হাসপাতালের অদূরস্থ সুমাইয়া কমপ্লেক্স নামক মার্কেটের নিচ তলার বাদশা টেলিকম নামক ফ্লেক্সিলোডের দোকানের মালিক গুলজার আহমদের আত্মীয়।

এদিকে, ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রীরা কলেজে গিয়ে সহপাঠীদের বিষয়টি জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাদশা টেলিকমে এসে বিচারপ্রার্থী হন। এসময় দুপক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শামিল হয়ে এসময় স্থানীয় অটোরিকশা চালকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

সংঘর্ষকালে দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মাইন উদ্দিন খানসহ দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এছাড়াও মাইক্রোবাস ও অটোরিকশাসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে দক্ষিণ সুরমা থানাপুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ থামাতে ফাঁকা করে এবং দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪শ’ জনকে আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। সে পথে হাঁটছেও না পুলিশ।

এদিকে, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিলো- প্রতিনিয়ত তাদের সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীরা চন্তিপুল এলাকার অটোরিকশা শ্রমিক এবং ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীদের ইভটিজিংয়ের শিকার হন। সম্মানের ভয়ে বেশিরভাগ ছাত্রীই এসব বিষয় কারো সঙ্গে শেয়ার করেন না। তবে রবিবার উত্যক্তের শিকার ছাত্রীরা সাহস করে সহপাঠীদের কাছে এসে বিষয়টি বলেছেন। এই ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায়ই অটোরিকশা শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এক হয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছেন। ওই দিন রাতে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন- এই সময়ের মধ্যে উত্যক্তকারী যুবক ও হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা কঠোর আন্দোনে যেতে বাধ্য হবেন। তবে শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনের পথে হাটেননি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা শান্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সেক্রেটারি ডা. আবদুল ওয়াহিদ সিলেটভিউ-কে সমঝোতা চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান তালুকদার বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেটভিউ-কে বলেন- তাদের দুপক্ষের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তাই কোনো পক্ষ থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন- তারা যেহেতু সমঝোতায় যাচ্ছেন, তাই আমরাও আর কাউকে আটক করতে যাইনি। উভয়পক্ষই সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখুক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম