সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এবং ২০১৪ সালে প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট গঠন করেন। তিনি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার জন্য সুরক্ষা সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসেন।


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সমাজসেবায় সুরক্ষায় ৩০% বাজেট ব্যয় করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে দেশে অভ‚তপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। ৫২ বছরে এ উন্নয়ন দৃশ্যমান। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ গতিপথ হারাবে না। ’৪১ সালের আগেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ।
 


বিভাগীয় কমিশনার বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে নগরীর বাগবাড়িস্থ সমাজসেবা কমপ্লেক্সে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিবাসীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমন্ডার সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েল, কলামিস্ট-সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠির সুরক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় মানবকল্যাণ পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবী আব্দুল জব্বার জলিল।
 

আঞ্চলিক সমাজসেবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রভাষক সানজিদা আক্তার ও সমাজসেবা অফিসার লুৎফুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে চার জেলা উপ-পরিচালকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস।
 

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এ.জেড রওশন জেবীন রুবা, মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও সিলেট সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সদস্য সালমা বাছিত, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রফিক, মৌলভীবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুচিত্রা রায়, প্রবেষণ অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ এসএম সোলায়মান মজুমদার, সিলেজ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসএম মুক্তার হোসেন, সাংবাদিক এম আহমদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার একে আজাদ ভ‚ইয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু সাঈদ মিয়া, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মুন্তাকিম, হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার খলিলুর রহমান ও জাহানারা বেগম, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর রায়, সমাজসেবী মারিয়াম চৌধুরী, সাবিনা চৌধুরী প্রমুখ।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা মোঃ শাহ আলম, পবিত্র গীতা পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিবেকান্দ সমাজপতি, পবিত্র ত্রিপিট পাঠ করেন শ্রীমৎ মহানাম ভিক্ষু, পবিত্র বাইবেল পাঠ করেন ফাদার ভিকন নিঝুম সাংমা।
 

পরে জাতীয় পতাকা, অলিম্পিক পতাকা ও জেলার পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক শ্বেত পায়রা অবমুক্তকরনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-২৩