২৬শে মার্চ,২০২৫ আজ বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস।বাংলায় "স্বাধীনতা" শব্দটি দুইটি অংশে গঠিত — "স্ব" অর্থ নিজ এবং "অধীনতা" অর্থ কারো অধীনে থাকা; তাই স্বাধীনতা মানে কারো অধীনে না থাকা বা কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হওয়া।একটি জাতির স্বাধীনতা মানে সেই জাতির নিজস্ব শাসন ব্যবস্থার অধীনে থাকা।বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল কারণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ,বৈষম্য এবং বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার হরণ।এই শোষণ শুধু অর্থনৈতিক ছিল না, ছিল সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বৈষম্যেরও।১৯৭১ সালের ২৬মার্চ এদেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ডিসেম্বর,১৯৭১ এ বিজয় অর্জন করে।এ বিজয় অর্জন করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে ৩০ লাখ মানুষকে এবং সম্রম হারাতে হয়েছে ২লক্ষ্য মা-বোনকে।
আমাদের মাত্র ২ঘন্টা দূরের দেশ মালেশিয়া।১৯৬৩ সালে তারা স্বাধীন হয়েছে।আমাদের ৮বছর আগে।আজ তাদের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে আর আমাদের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে চিন্তা করুন।আমাদের রাজনীতি,অর্থনীতি অনেকবার হুচট খেয়েছে কিন্তু এতো কি খেয়েছে যে আমরা মালেশিয়ার চেয়ে এতটা পিছিয়ে এখনো? আসলে সমস্যাটা রাজনীতির না সমস্যা রাজনীতিবিদদের।স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশে বারবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে পূর্ববর্তী সরকারের অপশাসন ও দুঃশাসনের ফলে।দেশমাতৃকাকে ভালো রাখতে বারবার দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে কিন্তু রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় যারা গিয়েছে তারা আবার রক্ত দেওয়ার পথ তৈরি করেছে।এতো রক্তপাতের মূল কারণ হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।বিরোধী দলকে দমন করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো গনতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সুতরাং দেশে যতদিন পর্যন্ত প্রকৃত গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা ততদিন পর্যন্ত দেশে শান্তি আসবেনা এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবেনা।প্রকৃত গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশের রাজনীতিকে সংস্কার করতে হবে।যত ধরনেরই সংস্কার করিনা কেন যদি রাজনীতি সংস্কার নাহয় দেশে শান্তি আসবেনা এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবেনা।রাজনীতি সংস্কারের জন্য ভালো মানুষদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং দমনপীড়নের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দুর্দশার কারণ নিজেদের মতকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ভিন্নমতকে দমন করা। রাজনীতিকে সবসময় 'ষড়যন্ত্র' দিয়ে আমরা ব্যাখ্যার চেষ্টা করি।কোন কিছুর বাস্তব ব্যাখ্যা করতে অক্ষম হলে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বানাতে আমাদের খুব তৃপ্তি হয়।রাজনীতিকে ইবাদত মনে করা উচিত অথচ রাজনীতি বলতে আমরা বুঝি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড,আধিপত্য বিস্তার,ব্যবসাবাণিজ্য।রাজনীতি জনগণের স্বার্থ রক্ষা, সেবা প্রদান, এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের কাজে জড়িত থাকে। রাজনীতি একদিকে যেমন সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন, তেমনি অন্যদিকে এটি মানুষের মৌলিক অধিকার,সামাজিক সমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রচারও করে।রাজনৈতিক পরিসর মতাদর্শিক বিজয় লাভ বা সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র নয়, কারণ সমাজে নানান মতের বা নানান বিশ্বাসের মানুষ বাস করে।
যে দল যখন ক্ষমতায় গিয়েছে বিরোধী দলকে দমন করতে যা যা করা লাগে কমবেশি তা করেছে।দমনপীড়নের রাজনীতির জন্য ভালো মানুষরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম করছে এবং মন্দ লোকেরা সেই স্থান দখল করে বসে আছে।দেশের অধিকাংশ তরুণদের গোল্ডেন ড্রিম এখন দেশত্যাগ করা।অতীতের মতো দমনপীড়নের রাজনীতি চলতে থাকলে এবং ভালো মানুষরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলে দেশ একসময় বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে এবং গোল্ডেন ড্রিমটি ডায়মন্ড ড্রিমে পরিনত হবে।
লেখক: আরিফ রশিদ, শিক্ষার্থী, আইন ও বিচার বিভাগ, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।




