ভারতীয়দের বাধায় সিলেটের স্থল শুল্ক স্টেশন জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথিত অভিযোগ তুলে আসামের করিমগঞ্জের তরুণরা পণ্য রফতানিতে বাধার সৃষ্টি করছে। সেদেশের ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে তারা পণ্য রফতানি বন্ধ করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। 

আমদানি না হওয়ায় এলসি করা আদা, পিয়াজ ও কমলা সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। 

জানা গেছে, সিলেটের কুশিয়ারা নদীর এপারে জকিগঞ্জ ও ওপারে ভারতের করিমগঞ্জ শুল্কস্টেশন। জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে সারা বছরই আদা, পিয়াজ, কমলা, আপেল ও সাতকরাসহ বিভিন্ন রকমের নিত্যপণ্য ও ফল ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। আমদানিকৃত পণ্য থেকে বড় অংকের রাজস্ব আদায় করে থাকে সরকার। গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে করিমগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য রফতানির সময় সেখানকার কিছু তরুণ বাধ সাধেন। 


বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ভারত বিদ্বেষের কথিত অভিযোগ তুলে তারা কুশিয়ারা নদীর ঘাটে কমলাবোঝাই কাভার্ড ভ্যান খালাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে সেখানকার পুলিশ এসে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সুজন দেবনাথ নামের এক তরুণকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে মুচলেখা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পণ্য রফতানি করতে পারেননি সেদেশের ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। 

কাস্টমস সূত্র জানায়, প্রতি ট্রাক কমলা থেকে বাংলাদেশ সরকার ৩-৪ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। অন্যান্য পণ্য থেকেও প্রায় সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের বাধার কারণে এলসি করেও পণ্য আনতে পারছেন না বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। ফলে সঠিক সময়ে পণ্য না পাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন তারা। 

সিলেট বিভাগীয় ফল ও কাঁচামাল আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আবুল কালাম জানান, ভারতীয়দের বাধার কারণে জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। এলসি করেও সঠিক সময়ে আদা, পিঁয়াজ, কমলাসহ বিভিন্ন পণ্য  আনতে পারছেন না।  এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এটাও বলা যাচ্ছে না। 

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল জানান, জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি হয় সেগুলোর বেশিরভাগই নিত্যপ্রয়োজনীয়। করিমগঞ্জের মানুষ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগে রফতানিতে বাধা দিচ্ছেন তা সঠিক নয়। দুইদেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্কের স্বার্থে এই অচলাবস্থা কাটাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

জকিগঞ্জ স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শান্তি বরণ চাকমা জানান, ২৪ ডিসেম্বর ভারতের করিমগঞ্জের কিছু লোক পণ্য রফতানিতে বাধা দেন। তারা বাংলাদেশে পণ্য পাঠাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এরপর থেকে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ