সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটযুদ্ধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৩৩ প্রার্থী। এর মধ্যে বেশিরভাগই কোটিপতি। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। কিন্তু নিজেদের নির্বাচনী খরচ মেটাতে তারা নির্ভর করছেন প্রবাসী আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সিক্ষদের উপর। তাঁদের নির্বাচনের টাকা আসছে বিদেশ থেকে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষন করে দেখা গেছে ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের নির্বাচনী খরচের বড় অংশের যোগান হচ্ছে বিদেশ থেকে।
সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হলফনামায় তাঁর নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় উল্লেখ করেছেন ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি ব্যক্তিগত আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিন ১৫ লাখ ও ভাগ্নে চৌধুরী আলবাব কাদের দিবেন ৫ লাখ টাকা। আর বাকি ১০ লাখ টাকা দেবেন তার কানাডা প্রবাসী ছেলে মো. রেজাউর রহমান।
একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান নির্বাচনে ব্যয় করতে চান ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তিনি খরচ করবেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দল থেকে অনুদান পাবেন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর প্রবাসী চাচা মারুফ আহমদ দেবেন ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নির্বাচনে ব্যয় করতে চান মাত্র ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ টাকা নিজের আয় ও এক লাখ টাকা দলীয় অনুদানের। আর বাকি ৩ লাখ টাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মা ও ৪ ভাই মিলে দিবেন।
ওই আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী শামীম মিয়া নির্বাচনে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করবেন ৫ লাখ টাকা। প্রবাসী ৬ আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব মিলে দেবেন ১১ লাখ টাকা আর দেশের ১২ জন শুভাকাঙ্খি তাকে নির্বাচনী খরচ হিসেবে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দেবেন বলে মনে করছেন তিনি।
সিলেট-২ আসনের ৫ প্রার্থীর সবার নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে প্রবাস থেকে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা হলফনামায় তাঁর নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা দিবেন দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আর বাকি ১০ লাখের মধ্যে নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা ও ভগ্নিপতি ৫ লাখ টাকা দেবেন।
১০ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী নির্বাচনে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় করতে চান ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া নির্বাচনের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই বোনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিবেন। ওই দুই বোন তাকে দান হিসেবে দেবেন সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এর বাইরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৩ আত্মীয় দিবেন ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আমির উদ্দিন নির্বাচনে ব্যক্তিগত আয় থেকে মাত্র ৬৩ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এছাড়া প্রবাসী দুই ভাই ৮০ হাজার টাকা ও দল থেকে অনুদান হিসেবে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় ১১ লাখের মধ্যে ব্যক্তিগত আয় থেকে ১ লাখ টাকা ও বাকি ১০ লাখ টাকা দিবেন তাঁর যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলে।
গণফোরামের মো. মুজিবুল হকের নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত আয়, দান ও অনুদান থেকে ৫ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই-বন্ধু ৯ জন মিলে ১২ লাখ টাকা ও ২ শুভাকাঙ্খি দিবেন ৩ লাখ টাকা।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুল মালিক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ লাখ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন।
একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রেদওয়ানুল হক চৌধুরী তার চাকরির বেতন থেকে সাড়ে ৬৮ হাজার টাকা, প্রবাসী দুই আত্মীয়ের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ও দলীয় অনুদান ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নির্বাচন করতে চান।
ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রবাসী ৩ ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ নিবেন ৭ লাখ টাকা এবং যুক্তরাজ্য, লন্ডন, কানাডা ও আমেরিকা প্রবাসী আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সিক্ষদের কাছ থেকে আরও সাড়ে ১৪ লাখ টাকা পাবেন বলে আশাবাদী। নির্বাচনী খরচ মেটাতে তিনি ২০ লাখ টাকার জমি বিক্রি করবেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
সিলেট-৪ আসনের ৫ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সাঈদ আহমদের নির্বাচনী ব্যয়ের একটি অংশ আসবে প্রবাস থেকে। নির্বাচনে তিনি ব্যক্তিগত আয় থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা, প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও দলীয় অনুদান ৪ লাখ টাকা নিয়ে খরচ করবেন।
সিলেট-৫ আসনে দুই জোটের প্রার্থীই প্রবাসী স্বজনদের টাকার উপর নির্ভরশীল। বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক নির্বাচনে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করতে চান। এর মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত আয় থেকে ২ লাখ টাকা। আয়ারল্যান্ড প্রবাসী ভাতিজার কাছ থেকে তিনি ঋণ নিবেন ৩ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেয়ে ৪ লাখ টাকা ও ওমান প্রবাসী ভাতিজা ৩ লাখ টাকা দিবে দান হিসেবে।
একই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল হাসানের নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় ২৫ লাখের মধ্যে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা, ৬ জন প্রবাসীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ও দেশের ৩ শুভাকাঙ্খির কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা দান হিসেবে পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ব্যক্তিগত আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা, প্রবাসী ৩ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ও দেশের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাক নিয়ে নির্বাচন করতে চান।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবদুন নূর নির্বাচনে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় করবেন ৩ লাখ টাকা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ৪ আত্মীয় দিবেন ২২ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম নির্বাচনে ব্যক্তিগত আয় থেকে ৪ লাখ টাকা ও প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে চান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




