পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশে বেশ আলোচনা হচ্ছে। ২০১৫ সালের পর থেকে সরকারী চাকুরীজীবিগণের বেতন-স্কেলের কোন পরিবর্তন হয় নি। জীবন-যাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে অনেক বেশী মাত্রায়। কোন পরিবারের যদি পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০১৫ সালে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতো, বর্তমানে সে ধরনের পরিবারের সে পরিমান প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় ১ লাখ টাকা।
২০১৫ সালে মাথা পিছু জি.ডি.পি ছিলো ১,২২৫ মার্কিন ডলার এবং ২০২৪ সালে মাথা পিছু জি.ডি.পি বৃদ্ধি পেয়ে হয়ে ছিলো ২,৫৯৪ মার্কিন ডলার। জনগণের জীবনযাত্রার মান এবং ব্যয় উভয়টিই বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশের সর্বমোট বাজেটের পরিমান ছিলো প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থাৎ ১০ বছর পর সর্বমোট বাজেটের পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫ সালে দেশে জি.ডি.পি-এর পরিমাণ ছিলো ১৯৫.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দশ বছর পর বাংলাদেশের জি.ডি.পি ছিলো প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিগত দশ বছরে দেশী উৎপদন, মাথাপিছু আয়, রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ, বাজেটের পরিধী বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। একটি গবেষণাধর্মী রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যে পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করতে ১ লাখ টাকা প্রয়োজন হতো, সে পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করতে ২০২৫ সালে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সরকারী চাকুরীজীবিগনের বেতন প্রকৃত-অর্থেই সীমিত এবং এই সীমিত বেতনের মাঝে মূল্যস্ফীতির প্রভাব ব্যাপক হয়ে থাকে। সরকারী চাকুরীজীবিগণের মাঝে যারা নীচের দিকের গ্রেডে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য এই সীমিত বেতনে পারিবারিক ব্যয়ভার বহন করা সত্যিই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
বেশ কিছু দিন পূর্বে সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তার অফিসে যাওয়া হলো। অফিস রুমটিও তেমন উন্নত নয়। রং চা এবং কয়েকটি বিস্কুট দিয়ে আমাদের আপ্যায়ন করা হলো। যেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম তিনি একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত। সীমিত বেতন, সৎ কর্মকর্তা, সন্তাগনের পড়ালেখা সহ অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার পর যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিটির জীবন-মান, ড্রেস-আপ সাধারাণ মনে হলো। কোন রাষ্ট্র অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা এবং বিভিন্ন বিভাগের মাঝে সমন্বয় সাধারণ করা। পরিকল্পনা এবং এর সফল বাস্তবায়ন ছাড়া এবং বিভিন্ন বিষয় অথবা বিভাগের সমন্বয় ছাড়া রাষ্ট্রীয়, অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিকল্পনা করা এবং এর জন্য মেধা, একনিষ্ট চিন্তা ও আন্তরিকতা একান্তভাবেই প্রয়োজন। এখন মনে করি, মাসের শেষ দিকে, উক্ত সৎ কর্মকর্তার বাড়ীতে হঠাৎ করে ৫/৬জন নিকট আত্মীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে এলেন এবং আত্মীয়গন ৫/৬ দিন উক্ত কর্মকর্তাগণের বাসায় অবস্থান করবেন। এ অবস্থায় একজন সৎ এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ চাপ অনুভাব করবেন এবং এ চাপের প্রভাব অনিচ্ছাকৃত হলেও রাষ্ট্রীয় অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ অথবা পরিকল্পনা গ্রহণের সময় পড়বে। বিশে^র উন্নত দেশগুলোর নীতি নির্ধারকগণ এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখেন। উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের আয়স্তর ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের মূল্যায়নী প্রয়োজন।
ব্রেইন ড্রেইন বা মেধা পাচার বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ বিশে^র উন্নত দেশসমূহে উন্নত জীবনের জন্য দেশ ত্যাগ করছেন অথবা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষেত্র বিশেষে থাকলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন কাঠামো সন্তোষজনক নয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য দেশীয় উদ্যোক্তগনের বিনিয়োগ, প্রবাসীগণের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বিনিযোগ বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। বুয়েট থেকে পাশ করা একজন ফ্রেশ গ্রাজুয়েট শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় সাধারণত চাকুরী শুরু করেন। বুয়েটের একজন ফ্রেশ গ্রাজুয়েট উন্নত দেশ সমূহে শুরুতেই ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা বেতন পেতে পারেন।
দক্ষিণ কোরিয়া এক সময় দরিদ্র দেশ ছিলো এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদেশে অবস্থানরত যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী কোরিয়ান জনগোষ্ঠীকে দেশে ফিরিয়া আনা, রপ্তানী বৃদ্ধি ইত্যাদি কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটি বিশে^র অন্যতম উন্নত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত বেশ কিছুদিন পূর্বে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে এসেছিলেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া কিভাবে উন্নয়ত দেশে পরিনত হলো এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সে দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানরত যোগ্যতাসম্পন্ন ও মেধাবী কোরিয়ান জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় এবং তাঁরা দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখেন। আমাদের দেশের মেধা পাচার হ্রাস করার জন্য অবশ্যই সরকারী চাকুরিজীবিগণের এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের বেতন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যুক্তরষ্ট্রের একজন সর্বোচ্চ সরকারী কর্মকর্তার মূল বেতন প্রায় ২৪/২৫ লাখ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতো রয়েছেই। যুক্তরাজ্যে সরকারী সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণের মূলবেতন প্রায় ২০/২১ লাখ টাকা। জাপানে এর পরিমাণ প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকা। আমাদের পাশর্^বর্তী ভারত এবং পাকিস্থানেও সরকারী সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণের মূলবেতন প্রায় ৩.৫ লাখ টাকর কাছাকাছি। বাংলাদেশে একজন গ্রেড -১ কর্মকতার মূলবেতন বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা মাত্র। বাংলাদেশের একজন সৎ, মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পক্ষে পারিবারিক, সামাজিক ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের পর অবসরের পূর্বে ছোট একটি ফ্ল্যাট এবং ছোট একটি গাড়ী ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব। দেশের মেধা পাচার হ্রাস, যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী জনগোষ্ঠীকে দেশে রাখা এবং তাঁদের মেধার যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে এবং দূর্ণীতিরোধে সরকারী চাকুরীজীবিগণের বেতন কাঠামো পরিবর্তণ বাস্তবসম্মত এবং একন্তাভাবেই কাম্য। বর্তমান নির্বাচিত সরকার এ বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারবে বলে বিশ^াস করি।
ড. মোহাথির মোহাম্মদ যেমন মালোয়েশিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলোর এবং বিভাগগুলোর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীগনকে মালোয়েশিয়াতে বিনিযোগ করার জন্য আগ্রহী করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন, সেভাবে একদিন বাংলাদেশও উন্নত দেশ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে বলে কামনা করি। এ জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা এবং কাজের মূল্যায়ন। আমাদের দেশের জনগন মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন। বিশে^র উন্নত দেশসমূহে দক্ষতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে হারানো সত্যিই দুঃখ জনক। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের দুজন অত্যন্ত মেধাবী এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মুশফিক উদ্দিন স্যার এবং ড. মোহাম্মদ মুজিবুল কবির স্যার। ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্ররা স্যারদের খুবই পছন্দ করতেন এবং স্যারগণ ছাত্রদের প্রতি ছিলেন খুবই আন্তরিক। বর্তমানে ড. মোহাম্মদ মুশফিক উদ্দিন স্যার যুক্তরাজ্যের লীডস্ বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ড. মোহাম্মদ মুজিবুল করিব স্যার কানাডার মেনিটোবা বিশ^বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে কর্মরত রয়েছেন। স্বনামধন্য শিক্ষকগণের দেশত্যাগের বিভিন্ন কারণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দেশের স্বল্প বেতন কাঠামো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় এবং বুয়েটে লেখাপড়া করার পর জনাব নাজমুল আলম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেইট এর সিনিয়র ট্রান্সপোর্টেশন প্ল্যানার এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। আমার নিকট আত্মীয় হবার ফলে জানতে পারি, তাঁর দেশ ত্যাগের অন্যতম কারন দেশের বেতন স্বল্পতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেতন সুবিধা। মেধাপাচার কোনভাবেই কাম্য নয় বরং যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে মেধাবীগণের মেধাকে দেশে উন্নয়নে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
সরকারী চাকুরীজিবীগণের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় প্রায়ই মূদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের (যেমন- চাল, তেল, ডাল, লবন) দাম বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র কর্মজীবি শ্রেনীর জনগোষ্ঠী (যেমন- রিকসা চালক, ভ্যান চালক, দিনমজুর, গৃহস্থালী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি) যে হারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়, তার চেয়ে বেশী হারে তাঁদের বেতন অথবা মজুরী বৃদ্ধি করে নেয়। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, এর চাইতে বেশী তাঁদের আয় বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- চালের দাম ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেলে একজন রিকসা চালক এর ফলে ৫০ টাকার মজুরী ৮০/৯০ টাকা নির্ধারন করে ফেলেন। গৃহ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির মাসিক বেতন ৪,০০০ টাকা হলে নতুন বর্ধিত বেতন হয় ৫,৫০০ টাকা। সুতরাং গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, যে হারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়, এর চাইতে বেশী হারে দরিদ্র শ্রেনীর কর্মজীবি জনগনের মজুরী অথবা বেতন বৃদ্ধি পায়। আবার মনে করি, একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী চাল, আটা, চিনি, দোকান ভাড়া বৃদ্ধি ফলে ১০ টাকার পরোটা ১৫ টাকা, ৫ টাকার শিংগাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করেন। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর বিক্রয় এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়। চাইনিজ রেষ্টুরেন্টগুলোর প্রসঙ্গে আসা যাক। জনগনের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি হলেও রেষ্টুরেন্টগুলোর বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং সরকারী চাকুরীজিবীগণের বেতন বৃদ্ধি পেলে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বর্ধিত হবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয় ও মুনাফায় এর প্রতিফলন দেখা যাবে। এছাড়াও সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানসমূহের মুনাফা বৃদ্ধি পেলে নির্ধারিত বেতনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের বেতন বৃদ্ধি করতে প্রতিষ্ঠানসমূহ সক্ষম হবে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের পণ্য অথবা সেবার বিক্রয় বৃদ্ধির ফলে প্রতিষ্ঠানসমূহের মুনাফার পরিমাণ হ্রাস পাবে না বরং বৃদ্ধি পাবে। সরকারী চাকুরীজিবীগনের বেতন বৃদ্ধি পেলে কর্মস্পৃহা, কর্মে প্রেরণা, আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং চাকুরীজিবীগণের যোগ্যতার কিছুটা হলেও মূল্যায়ন হবে। কোন দেশে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন। মনে করি, আগামী ১০ বছরে দেশে যদি বৈদেশিক বিনিযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অটোমোবাইল সেক্টর বিকাশ লাভ করে তবে প্রচুর সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজগুলো আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে অথবা নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটা হলো সমন্বয়ের একটি উদাহরণ।
সত্যিকার অর্থেই সরকারী কর্মকর্তাগণ এবং নীতি নির্ধারকগণের চিন্তা, আন্তারিকতা, কর্মেস্পৃহা ইত্যাদি জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে, সমন্বয় সাধন করতে এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বৃদ্ধি পায় সেবার মান এবং হ্রাস পায় দূর্ণীতি। জনগনের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এই বিষয়গুলো অনুধাবন করবে বলেই আমাদের বিশ^াস। বেতন কাঠামো পরিবর্তণের অপেক্ষাই রইলাম।
লেখক: ড. ফজলে এলাহী মোহাম্মদ ফয়সাল, অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।




