দেশ পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। দেশের লাখো তরুণের কর্মসংস্থান, বিদেশগামী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার, এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহের সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আরিফুল হক চৌধুরী একজন কর্মঠ ও নিবেদিতপ্রাণ মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নীরবে কিন্তু আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত থাকা শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করার জন্য তাঁর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে তিনি ধারাবাহিক বৈঠক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তাঁর মন্ত্রণালয় কাজ করছে।


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। দেশের উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশগামী অনেক শ্রমিক প্রতারণা, দালালচক্র এবং নানা হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। আরিফুল হক চৌধুরী এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন বলেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাজ শুধু অফিসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে অনেক সময় ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিতে হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। নানা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে সচেষ্ট।

বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো বেকারত্ব। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক তরুণ শিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকেন। সবার জন্য দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কঠিন হলেও বৈদেশিক কর্মসংস্থান অনেক পরিবারের জীবনে স্বস্তি এনে দিতে পারে। তাই বিদেশে নিরাপদ ও বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়, তবে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
জনগণ সবসময় এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, যারা শুধু প্রতিশ্রুতি দেন না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেন। আরিফুল হক চৌধুরীর কার্যক্রম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে তাঁকে আরও কার্যকর ও জনমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশের তরুণ সমাজ, প্রবাসী কর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দেশের শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারিত হোক, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক এবং বিদেশগামী শ্রমিকরা সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাক। এই প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগই হতে পারে ভবিষ্যতের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
 


আকাশ চৌধুরী : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।