সিলেটের জকিগঞ্জে ওয়াসিম আকরাম সাহান (২১) নামের এক যুবককে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছেন এক নারী। ওই নারীর অভিযোগ সাহান তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করেছেন। এ অভিযোগে তিনি সাহানকে চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটা করেন। সাহান একজন পরিচিত জুলাইযোদ্ধা। ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে সাহানের দাবি পুরো ঘটনা ষড়যন্ত্রের অংশ। 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 


থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওয়াসিম আকরাম সাহান তার বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষনচেষ্টার ঘটনায় মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে জকিগঞ্জ বাজারের ডাকবাংলো রোডের একটি কম্পিউটারের দোকানে তিনি অভিযোগ লিখাতে যান। তখন ওয়াসিম আকরাম সাহান সেখানে গিয়ে লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়াসিম আকরাম দীর্ঘদিন ধরে আমার স্ত্রীকে রাস্তাঘাটে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়ার সময়ও তাকে বিরক্ত করত। সর্বশেষ আমার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর পর সে প্রতিবাদ হিসেবে অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে।’


এ ব্যাপারে ওয়াসিম আকরাম সাহান বলেন, ‘এই মহিলা খারাপ। তিনি বরিশালে স্বামী ও বাচ্চাদের ফেলে এসে এখানে আরেকটি বিয়ে করেছেন। গোটা এলাকার লোকজন তার স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে জানে।’

 
তিনি বলেন, ‘আমি বাজারে যাওয়ার পর হঠাৎ অন্য একজন ধাক্কা দিয়ে তাকে আমার উপর ফেলে দেয়। পরে ওই নারী আমাকে হেনস্থা করেছেন। পরে আমি থানায় গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি।’


থানায় দেওয়া অভিযোগে সাহান উল্লেখ করেন, মাজেদার স্বামী গরু চুরির আাসমি হওয়ার পর থেকে তিনি সাহানকে মামলা পরিচালনার সাথে জড়িত সন্দেহ করে রাস্তাঘাটে দেখলেই অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তিনি জকিগঞ্জ বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে উপজেলা পরিষদের কাছে পৌঁছামাত্র সায়েক, আব্দুর রউফ ও মাজেদা রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। সায়েক তার শার্টের কলার ধরে নামানোমাত্র আব্দুর রউফ ও মাজেদা তাকে এলোপাতাড়ি মারধোর করতে থাকেন। 

এ সময় তারা তার সঙ্গে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা, এটিএম কার্ডসহ মূল্যবান কাগজপত্রও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করলে তাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সাহানের।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন মিয়া বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে