যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক নজিরবিহীন এবং কঠোর পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রণীত নিয়মের অধীনে, যা কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা জনসাধারণের মতামতের সুযোগ ছাড়াই গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক হাজার বাংলাদেশিসহ প্রায় ৪ লাখ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলি) সরাসরি বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
 

মানবাধিকারকর্মী, অভিবাসন আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।


তাদের মতে, এই নীতি কেবল মানবিক সংকটই তৈরি করবে না, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের লালিত গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
 

জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মের ফলে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের কাছে বিচারাধীন প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার অ্যাসাইলামের আবেদন সরাসরি বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আগে নিয়ম ছিল, যারা বৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই-তারা একজন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আশ্রয় কর্মকর্তার (অ্যাসাইলাম অফিসার) সামনে নিজেদের আবেদন উপস্থাপন করার সুযোগ পেতেন। যদি কোনো কারণে সেই কর্মকর্তার কাছে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না হতো, তবে অ্যাসাইলাম অফিসার আবেদনকারীকে বহিষ্কার-প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠাতে পারতেন, অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের পথেও অগ্রসর হতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন বিচারকদের এমন ক্ষমতা প্রদান করেছে-যার মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শুনানি ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু মামলা সরাসরি খারিজ করে দিতে পারবেন।
 

এর অর্থ হলো, যেসব মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা নিজেদের স্বপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়ার আগেই নিজ দেশে নির্বাসিত হতে পারেন। সার্বিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের এ নতুন নিয়ম এবং ধারাবাহিক অভিযানগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

বৈধ আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি থেকে শুরু করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া প্রযুক্তিকর্মী- সবাই এখন সমানভাবে বহিষ্কারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২১