ছবি: সংগৃহিত

গ্রামবাসী ও এলাকার লোকজনের চলাচলের রাস্তার উপরে রাতের আঁধারে নির্মাণ করা হয়েছে দেয়াল। দেয়াল নির্মাণের পর রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন করতে রাস্তার উপরে বড় সাইজের গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রভাবশালী পক্ষের লাঠিয়াল বাহিনি রাতদিন সেই দেয়াল পাহারা দিচ্ছেন।

 


রাস্তায় চলাচল করা পথচারি দেখলেই তেড়ে আসেন, হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক সভ্যতার পরিপন্থী ঘটনাটি সিলেটের ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের বেরারাই গ্রামে। রাস্তার মধ্যে দেয়াল নির্মান করায় নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হলে সেই দেয়ালকে টয়লেটে রূপান্তর করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেরারাই গ্রামবাসীর চলাচলেল রাস্তাটি বেগমপুর পাকা সড়কের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। প্রায় শতাধিক বছর ধরে রাস্তাটি বেরারাই গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশ^বর্তী ভাগলপুর গ্রাসহ এলাকার জনসাধারণ ক্ষেত-কৃষির কাজে রাস্তাটি ব্যবহার করেন। গত ৩আগস্ট দিনগত রাতে এই রাস্তার উপরে দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন বেরারাই গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান উছমান, কাপ্তান মিয়া ও সুলতান মিয়াসহ তাদের সহযোগীরা। পরদিন ৪ আগস্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


 
 সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় উপর দেয়াল নির্মাণ করার পর ৪আগস্ট রাতে সেখানে দেয়ালস্থলে পাকা টয়লেট বানানো হয়েছে। রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন করতে ৪ ও ৫ আগস্ট রাস্তার উপরে বড় সাইজের গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

 

বিগতদিনে এই রাস্তার উপরে উছমান পরিবারের লোকজন গেইট নির্মাণ করে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনায় গত ৩আগস্ট গ্রামবাসীর পক্ষে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর ওইদিন রাতেই রাস্তার উপরে দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীর দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ধারায় একটি আদেশ দেন আদালত।

 

আদেশে ওসমানীনগরের এসিল্যান্ড, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক সুষ্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদেশ প্রাপ্ত হয়ে ৬আগস্ট ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বিবদমান পক্ষদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট ধারায় নোটিশ দেন। ১৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট আদালতে একখানা প্রতিবেদন প্রেরণ করেন তিনি। কিন্তু একই আদেশ কার্যকর করতে ওসমানীনগরের ইউএনও মুনমুন নাহার আশা কালক্ষেপণ করছেন। ইউএনও সাংবাদিকদের বলেছেন, মালিকানা ভূমিতে সার্ভেয়ার পরিদর্শনের এখতিয়ার নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু আদেশে দেশে ওসমানীনগরের এসিল্যান্ড, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও থানার ওসির মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি উল্যেখ রয়েছে।

 

সাদীপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইসমাইল আলী ১৫ আগস্ট সালিশ বৈঠক আহবান করেন। উছমান ও তার পক্ষের লোকজন ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সালিশ বৈঠকে সাড়া দেননি। গ্রামের লোকজনের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উছমানকে সালিশ বৈঠকে বসাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইউএনও’র কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করতেও গড়িমসি করছেন তিনি। যার কারণে ইউএনও আদালতে প্রতিবেদন দিচ্ছেন না।

 

সাদীপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইসমাইল আলী বলেন, আমি বহুমুখি চাপে আছি, প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করছি।


 
গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, বিগত দিনে এই রাস্তার উপরে গেইট নির্মাণের পর সালিশের উদ্যোগ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও উছমান উপস্থিত হননি। কখনও উপস্থিত হলেও সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তা মিমাংশ করা বা গ্রামবাসীকে বিকল্প রাস্তার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

এবিষয়ে আব্দুল মান্নান উছমান বলেন, দেয়াল ও গেইট নির্মাণ করা ওই ভূমিতে মালিকানা রয়েছে। আমিও কয়েকটি মামলা করেছি, গ্রামবাসী নদীর উপর দিয়ে চলাচল করবে নাকি হাওড় দিয়ে যাবে, তা আমার দেখার বিষয় নয়।

 

ওসমানীনগর থানার ওসি গাজী মোস্তফা বলেন, থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। আদালতে প্রেতিবেন প্রেরণ করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারী রয়েছে।

 

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা ও বিকল্প রাস্তা নেই, শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীর চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে বিষয়টি জানা আছে। উছমান স্থানীয়ভাবে মিমাংশার সুযোগ দিচ্ছেন না, আমাদের ডাকেও তিনি সাড়া না। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবেদন দিবেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/রনিক/ইকে-০৬