‘ছোট বেলা সিনেমা বা টিভিতে বরফ ঝরা দৃশ্য দেখতাম। কিন্তু ওই দৃশ্য বাস্তবে চোখের সামনে দেখে রূপকথার জগতে চলে গিয়েছিলাম। বরফ দেখার পর বরফ গায়ে মাখে এবং বরফখণ্ড নিয়ে ছোড়াছুড়িতে মেতে উঠি।’ ওই কথাগুলো সিলেটভিউ'র ওই প্রতিবেদকের কাছে বলছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করতে আসা বাংলাদেশী শিক্ষার্থী খালেদ হাসান।
শুধু খালেদ হাসানই নয়, শীতকালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের স্নো মাউন্টেনগুলোতে প্রচুর পর্যটকের ভিড় হয়। বরফ দেখতে ও স্কি করতে মানুষ সেখানে ছুটে যান। বিশেষ করে বিখ্যাত বরফে ঢাকা মাউন্টেন এলাকা থ্রেডবো, প্যারিশার, ইয়ারানগবলি কেভস, লেক জিন্ডাবাইন ও ব্লু কাউয়ে শীতকালে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না।
সম্প্রতি থ্রেডবো, প্যারিশার ঘুরে দেখা গেছে, প্রকৃতিপ্রেমীরা শীত ও বরফঘেরা পরিবেশের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে এসব স্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করছেন। তবে থ্রেডবোতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘতম স্কি রানটিতে ভ্রমণপিপাসুদের উপড়ে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া আলপাইন কোস্টার ও থ্রেডবো লিজার সেন্টারেও পর্যটকদের লম্বা লাইন দেখা গেছে।
এ সময় কথা হয় আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীর নামের দুই বাংলাদেশির সাথে।
তাঁরা সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন থেকে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে বসবাস করি। সেই সুবাদে এবারে আমরা ১২ জনের একটি টিম নিয়ে স্নো মাউন্টেন ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে রোলার কোস্টার এবং স্কাইড্রপের মতো রোমাঞ্চকর রাইডগুলোতে উপভোগ করছি। তবে ওই রাইডগুলো উপভোগ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।’
ঘুরতে আসার অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কে আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীর বলেন, ‘সবার ছুটি না মিললে বড় দল বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কঠিন হয়। তবে ছোট ছুটি ও উইকেন্ড কাজে লাগিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।’
তবে আব্দুর রহমান আমীর বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন যেকোনো ভ্রমণকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তোলে। ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়, যা আমাদের ক্লান্তি দূর করে মনে আনে নতুন প্রাণশক্তি।’
আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীর ছোট ভাই আনাস আমীর বলেন, ‘আমি প্রথম বারের মোত স্নো মাউন্টেন ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।’
শুধু আনাসই নয়, প্রথম বারের মতো স্নো মাউন্টেন ঘুরতে এসেছেন ফাইজা নাহিয়ান ও সানজিদা আক্তার নামের আরো দুই বাংলাদেশি তরুণী।
ফাইজা নাহিয়ানের স্বামী ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি র্দীঘ দিন থেকে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করি। কিন্তু এতো দিন আমি একা ছিলাম। তাই আমি স্নো মাউন্টেন ঘুরতে আসি নাই। কিন্তু চলতি বছর আমার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়াতে এসেছে। তাই স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এ জন্য মনে অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে। এই সুন্দর অনুভূতির মুহূর্তগুলো জীবনকে আরও সুন্দর করবে।’
সানজিদা আক্তারের স্বামী মজুমদার তুষার বলেন, ‘অফিসে কাজের চাপ অনেক বেশি। স্নো মাউন্টেনে আসার জন্য দুই মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নেই। তারপর শেষ মুর্হুতে আসতে পারা অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। পরে অফিস শেষে করে রাতে স্নো মাউন্টেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। এখন অনেক ভালো লাগছে।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার স্নো মাউন্টেন গুলোতে একাধিক বার ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন ক্যানবেরার বাসিন্দা সাকিব অনিক ও তাঁর সহধর্মীনি দিয়া রহমান।
তাঁরা বলেন, ‘আমরা একাধিকবার স্নো মাউন্টেনে ঘুরতে এসেছি। তারপরও বার বার আসতে মন চায়। তাই এবার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।’
বরফের পাহাড়ে বারবার ছুটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এক জাদুকরি অনুভূতি জানিয়ে সাকিব অনিক বলেন, ‘প্রতিবারই এখানকার রূপ বদলায়। শীতে বরফশুভ্র স্কি রিসোর্ট যেমন মন কাড়ে, তেমনি গরমে রঙিন ফুল ও পাহাড়ের ট্রেইল অন্য এক প্রশান্তি দেয়। বারবার যাওয়ার টানে এখানকার প্রকৃতি এক অন্য ভালোলাগা তৈরি করে।’
সালেহিন ফাহিম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বরফে ঢাকা স্নো মাউন্টেন দেখার অনুভূতি এককথায় জাদুকরী ও রোমাঞ্চকর। সাদা বরফে মোড়ানো বিশাল চূড়া প্রকৃতির এক শান্ত ও পবিত্র রূপ ফুটিয়ে তোলেছে; যা মনকে নিমিষেই এক অন্যরকম প্রশান্তি ও বিস্ময়ে ভরে দেয়। তাই এমন দৃশ্য দেখতে আমার আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে এখানে এসেছি।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/খলিল/এসডি-১৪




