সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সাদারপাড়া আল আমিন যুব সংঘের সভাপতি, সিলেটের খামার ব্যবসায়ী আমার প্রিয় ভাগনা সোহেল আহমদ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সোহেল শুধু আমার ভাগনা ছিল না—সে ছিল আমার অত্যন্ত আপন একজন। একজন সৎ, সজ্জন ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে নিজ এলাকায় সবার কাছে সে ছিল অত্যন্ত সমাদৃত।
তার জানাজার নামাজ বৃহস্পতিবার বাদ যোহর সাদারপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাজায় উপস্থিত হয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করা হয়।জানাজার নামাজ পড়ান তার একমাত্র ছেলে জাবির হক।
সোহেল, তোমার সঙ্গে কাটানো সেই রাতটি আজ শুধু স্মৃতি…
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে বাংলাদেশে, সিলেটের নিজ বাড়িতে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য গিয়েছিলাম। তখন সোহেলের সঙ্গে কত আড্ডা, কত কথা—ভাবতেই পারিনি, সেটিই আমাদের শেষ স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
আমি যাওয়ার পরদিন আমাদের বাড়িতে বাবুর্চি এনে রান্না করেছিলাম। সোহেলসহ বাড়ির সবাইকে নিয়ে উঠানে বসে রাতে আখনি খেলাম। আড্ডা আর গল্পে কখন যে রাত প্রায় ২টা বেজে গিয়েছিল, টেরই পাইনি।
অথচ সেদিন বিকালেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছিলাম। শরীরের কারণে কোথাও বের হতে পারিনি।
এরই মধ্যে একদিন সোহেল হঠাৎ বলল, “তোমাকে সাদারপাড়া মাদরাসাতুল আরাফাতের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।”
আমি রাজি হচ্ছিলাম না। কিন্তু সোহেল বলল, “ভাগনা, দিবে—দিতেই হবে।” তার পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম। এরপর আমাকে বিশাল এক সংবর্ধনা দেওয়া হলো।
পরে আল আমিন যুব সংঘের সাবেক সভাপতি হিসেবেও আমাকে আবার সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।
আজ সেই সব মুহূর্ত, সেই হাসি, সেই আড্ডা—সবকিছুই কেবল স্মৃতি।
ছোটবেলায় সোহেলের সঙ্গে কত খেলাধুলা করেছি। বড় হওয়ার পরও লন্ডন থেকে প্রায়ই তার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। কত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম!
সোহেলের ছোট ভাই ক্লিনিকে আসে। তাকে নিয়ে সোহেল সবসময় চিন্তা করত। আমি তাকে বলতাম—
“চিন্তা করিও না। আমরাতো আছি।”
আজ সেই কথাগুলো মনে পড়ছে বারবার।
ইস সোহেল… তুমি এভাবে অসময়ে চলে গেলে!
আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তুমি আর নেই।
এই লেখাটি যখন লিখতে বসেছি, যুক্তরাজ্যে তখন রাত প্রায় ২টা। চোখের পানি আর বুকের ভারে ঠিকমতো লিখতেও পারছি না। হাত-পা কাঁপছে…
ইস… ইস… সোহেল!
কেন এভাবে চলে গেলে?
মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুম সোহেল আহমদের সকল গুনাহ-খাতা ক্ষমা করে দিন, তাঁর রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আল্লাহ তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
আমিন, ইয়া রব্বুল আলামিন।
সবার কাছে মরহুমের জন্য দোয়া কামনা করছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৬




