উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা বিএনপি।
 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার স্থানীয় আমখোলা বাজারে ‘১ নম্বর আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গসহযোগী সংগঠন’-এর ব্যানারে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 


মিছিলের ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং গলাচিপা উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি শাহজাহান খানের ছবি ছিল। এতে লেখা ছিল ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল।’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে শোনা যায়, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা-শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা।’ এরপর তাদের বলতে শোনা যায়, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন। যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; ছাত্রলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন।’ পরে ‘যুবদলের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; ছাত্রদলের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বলেও স্লোগান দেওয়া হয়।
 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিল ও সমাবেশে আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান গাজী, সদস্যসচিব আল মামুন সরদার এবং গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ইমরানসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া গলাচিপা উপজেলা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ইমরান বলেন, ‘গতকাল তিনি পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে নিজ উপজেলায় ফিরছিলেন। আমখোলা চৌরাস্তায় পৌঁছালে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আল মামুন সরদার তাকে মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করেন। পরে তিনি মিছিলে অংশ নেন। এরপর মিছিল চলাকালে কে বা কারা পেছন থেকে যুবলীগ-ছাত্রলীগের অ্যাকশন বলে স্লোগান দেয়।’
 

আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আল মামুন সরদারের মুঠোফোনে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান গাজী। তিনি বলেন, ‘আমরা তো দলীয় স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছি। এর মধ্যে কে বা কারা যুবলীগ-ছাত্রলীগের নাম করে স্লোগান দিয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি।’
 

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলতাফ খান বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৮