সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক এক নতুন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সড়কে ঘনঘন দূর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
 

সুনামগঞ্জ বিআরটিএর তথ্যমতে, চলতি বছরের (২০২৬ সালে) জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সড়কে পৃথক দূর্ঘটনায় মোট ৬২ জনের মৃত্যু এবং ৬৫ জন আহত হয়েছেন। এত কম সময়ে এত বিপুল সংখ্যক দূর্ঘটনা এবং মৃত্যু এই সড়কে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন। 


মহাসড়কটির শান্তিগঞ্জ এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত বাঁক  দূর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।  চারদিকে হাওর আর মাঝ দিয়ে বহমান বাঁকা সড়কে একটু এদিকসেদিক হলেই দূর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি দেখা দেয়।
 

এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে লুকিং মিরর স্থাপন করা গেলে দূর্ঘটনার পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতো। সচরাচর দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের বাঁকে এরকম লুকিং মিরর স্থাপন করে দূর্ঘটনার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানোর নজির রয়েছে। 

পাশাপাশি বাঁকা সড়কের পাশে উপযুক্ত সাইন দিয়ে চালকদের সতর্ক করা যেতে পারে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সম্পর্কে চালক সাইন দেখেই পূর্ব সতর্ক হতে পারেন।

তাছাড়া এ সড়কে দূর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ার পেছনে অনিয়ন্ত্রিত অবৈধ ইজিবাইকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াকেও দায়ী করা হয়। এমনকি এসব ইজিবাইক বেশকিছু দূর্ঘটনার প্রত্যক্ষ কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন কর্তৃক এসব অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে না পারলে দূর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
 

এসব কারণ ছাড়াও চালকের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, আইনের দূর্বলতাও ঘনঘন দূর্ঘটনা ঘটার পেছনে অনেকাংশে দায়ী। বিশেষ এরকম একটি সড়কে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি থাকলে দূর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একইসাথে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত রাখা সমানভাবে জরুরী। এই দুই ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে কিছুটা হলেও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে এ সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যাওয়ায় সড়কের আয়তনের তুলনায় যানবাহনের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। ফলে প্রায়শই বড় গাড়ির ধাক্কায় সিএনজি, মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। যানবাহনের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণটিও পরোক্ষভাবে ঘনঘন দূর্ঘটনা ঘটার পেছনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

এক্ষেত্রে পুরো সড়কটি ২ লেন থেকে ৪ লেনে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে যানবাহনের চাপ লাঘব করা যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যায়ের বিষয়টি মাথায় আসলেও জনগুরুত্ব বিবেচনায় এটি এখন বাস্তবায়ন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। যদিও বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে এ সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সর্বোপরি, এই সড়কে প্রাণহানি অনিবার্য নয়; যথাযথ প্রকৌশলগত ব্যবস্থা, আইনের প্রয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 

লেখক: রোমান আহমেদ, শিক্ষার্থী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।