লিটন দাসের কল্যাণে দুইবার লাইফ পেলেন ভানুকা রাজাপক্ষ। ১৪ রানে আফিফের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্রথম আর ২২ রানে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে লিটনের কল্যাণে দ্বিতীয় দফায় লাইফ পান রাজাপক্ষে।

১৩তম ওভারে আফিফ হোসেনের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন রাজাপক্ষ। ফিল্ডার লিটন ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। এরপর ১৫তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দেন রাজাপক্ষ। কিন্ত এবারও ক্যাচটি নিতে পারেননি ফিল্ডার লিটন।

খেলার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হতাশা প্রকাশ করেন। বলটি লিটনের হাত ফসকে ড্রফ খেয়ে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। দলীয় ৯৮ রানে রাজা পাকশেকে আউট করা গেলে কিছুটা চাপে রাখা যেতে শ্রীলংকাকে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলংকার সংগ্রহ ১৩.৩ ওভারের খেলা শেষে ১১৩/৩ রান। জয়ের জন্য তাদের ৩৯ বলে ৫৯ রান করতে হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারাল শ্রীলংকা। ইনিংসের চতুর্থ বলে নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লংকান তারকা ওপেনার কুশাল পেরেরা। দলীয় ২ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর চারিথ আসালঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন পাথুম নিসাঙ্কা। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নিসাঙ্কা ও আসালঙ্কার মধ্যকার জুটির বিচ্ছেদ ঘটান সাকিব আল হাসান। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২১ বলে ২৪ রান করেন পাথুম নিসাঙ্কা।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। তাকে রানের খাতা খুলতে দেননি সাকিব।

সাকিবের পর লংকান শিবিরে আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওয়ানেন্দু হাসারঙ্গা ডি সিলভা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৯.৪ ওভারে ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

এর আগে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে ভড় করে ৪ উইকেটে ১৭১ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ৫২ বলে ৬টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ওপেনার নাঈম শেখ। ৩৭ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় অপরাজিত ৫৭ রান করেন মুশফিকুর রহিম।

রোববার আরব আমিরাতের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলংকা ক্রিকেট দল।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনীতে মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেন লিটন দাস। ৫.৫ ওভারে ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৬ রান করে ফেরেন এ ওপেনার।

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১০ রান করে দলীয় ৫৬ রানে ফেরেন সাকিব। করুনারত্নের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ অলরাউন্ডার।

এরপর নাঈমের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তাড়া গড়েন ৭৩ রানের জুটি। ৫২ বলে ৬২ রান করে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার বিদায়ে ১৬.১ ওভারে ১২৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া মুশফিকু রহিম ৩২ বলে চারটি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন। মুশফিকের ফিফটির পর রান আউট হয়ে ফেরেন আফিফ হোসেন। ১৮.৩ ওভারে ১৫০ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭১/৪ রান ( মোহাম্মদ নাঈম ৬২, মুশফিকুর রহিম ৫৭*, লিটন দাস ১৬, সাকিব আল হাসান ১০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১০*, আফিফ হোসেন ৭)।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জিএসি-০৭


সূত্র : যুগান্তর