এই মহামানবের কথা  লিখতে চাইলে লিখা সম্ভব হয়না, এই রত্নের কথা কতটুকু বা লিখতে পারবো এর যোগ্যতা কিংবা জানার পরিধি আছে কতটুকু  আমি অধমের। নই আমি কোন আলেম পরিবারের সন্তান। কিন্তু ছোট বেলা থেকে দেখতাম বাবা-চাচাদের ফুলতলী ছাহেবের প্রতি টান। কওমি অধ্যুষিত আমাদের এলাকায় যখন মিলাদ ক্বিয়ামের পক্ষে কথা বলা লোকদের বড়ই অভাব ঘুটি কয়েক পরিবার/বাড়ি ছিলো মিলাদ ক্বিয়ামের  পক্ষে কিংবা মিলাদ ক্বিয়ামের সুর শোনা যেত যে সব বাড়ি থেকে  তার মধ্যে অন্যতম আমাদের বাড়ি/পরিবার।

 


এই সুত্রে মুহাদ্দিস ছাহেব নামটির সাথে পরিচিত (মুহাদ্দিস ছাহেব বলতে একমাত্র উনাকে আমরা চিনতাম)। ছোট বেলা থেকে জানতাম উনি বড় মাপের আলেম। তাই নসিহত খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। কাছে যাওয়ার সুযোগ বেশি হয়নি। কয়েক বছর থেকে মাঝে মধ্যে দেখা করার সুযোগ হত। হুজুরের কথা বলার ধরণ আমার খুব ভালো লাগতো, খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বলতেন যাতে শ্রোতার বুঝতে কিংবা শুনতে অসুবিধা না হয়। বয়স প্রায় ৮৯ বছর (হুজুরের মুখ থেকে শুনা)। মাঝে মধ্যে অসুস্থ হতেন আবার সুস্থ হয়ে যেতেন। কিন্তু বিগত কয়েক মাস থেকে খুব বেশি অসুস্থ ছিলেন মনে বড় পীড়া দিত হায়াত ও সুস্থ জীবনের জন্য দোয়া চাইতাম।  সিলেটে মেয়ের বাসায় থাকাকালীন সময়  ৩দিন দেখতে গিয়েছিলাম দেখে কষ্ট লেগেছে মনে বড় ভয় জেগেছিল  আল্লাহ  তোমার এই মকবুল বান্দার এত পরীক্ষা আমার মতো আসামীর কি হবে?

একদিন আমার লেখা গ্রন্থ "সিলেটি পীর আউলিয়ার জীবনী" দিয়েছিলাম বইটি হাতে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে বলেছিলেন আমি বইটি পড়ব। বলেছিলেন সিলেট নিয়া লিখা আমার খুব  ভালো লাগে মনোযোগ দিয়ে পড়ি আপনি বেশি বেশি সিলেট নিয়ে লিখবেন।


একজন বিনয়ী, অমায়িক  মানুষের প্রকৃত উদাহরণ ছিলেন  আমাদের মুহাদ্দিস ছাহেব হুজুর। একজন বয়জৈষ্ঠ্য আলিম, অসংখ্য আলেম উলামার ওস্তাদ,একজন বুযুর্গ, চাইলেতো মুরিদের সংখ্যা লাখের কোঠায় নিয়ে যেতে পারতেন, বাড়ির নাম হতে পারতো রারাই ছাহেব বাড়ি। কিন্তু মুর্শিদ আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী রহ এর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ভালোবাসা থেকে বিরত থাকেন। ১৫ই জানুয়ারি মুর্শিদ ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী রহ এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে অসুস্থতা জনিত কারণে  অনুপস্থিত  থাকার কারণে যে চাপাকান্না রেকর্ড করা বক্তব্যে শুনলাম মনটা হাহাকার করে উঠলো। মুর্শিদ ও মুর্শিদ বাড়ির প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উটলো যা সত্যি বিরল। 

 

একজন আলিম, শায়খুল হাদীস, ফকীহ, একজন সুলেখক বহু  গুণে গুণান্বিত একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন  যা আমার মতো মানুষের লিখে বুঝানো সম্ভব নয়।  শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান মুহাদ্দিস ছাহেব হুজুর (রহ) (সাবেক অধ্যক্ষ ইছামতি কামিল মাদ্রাসা,খলিফায়ে ফুলতলী) চলে গেলেন এই পৃথিবী ছেড়ে কিন্তু রেখে গেছেন অসংখ্য  খেদমত যা কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে।  ৭ই ফেব্রুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জের রারাই গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ৮ই ফেব্রুয়ারি থানা বাজার সংলগ্ন উত্তর মাঠে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে বাড়ির পাশে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত আল-হাবীব মসজিদ প্রাঙ্গণে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। তিনি চলে গেছেন কিন্তু থাকবেন অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসার আসন জুড়ে, আমাদের স্মৃতিতে থাকবেন চির ভাস্কর হয়ে। আল্লাহ পাক দরজা বুলন্দ করুন, আমাদেরকে রুহানি ফয়েদ্ব নসীব করুন।

লেখকঃ চাকুরীজীবি, সিলেট।