সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ ও প্রধান কবরস্থান ‘হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থান’। প্রায় ৬শ’ বছরের পুরনো এই কবরস্থানটি দেখভাল করছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সিসিক শুরু করে কবরস্থান আধুনিকায়ন কাজ। টিলারকম কবরস্থানটিকে ব্লকে ভাগ করে চলছে সংস্কার কাজ। হাজারো মানুষের কবরের উপর নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা, টিলার সীমানা প্রাচীর, ব্লকের গার্ডওয়াল ও টিলা কেটে ব্লক নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক কবর খুঁড়ে ফেলতে হচ্ছে সিসিককে। এস্কেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে মাটি খুঁড়ার সময় বের হয়ে আসে লাশের হাড়গোড় ও মাথার খুলি। এতে কবরস্থান সংস্কারের নামে মানুষের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এ নিয়ে সিলেটে বিক্ষুব্ধ লোকজন নানা কর্মসূচিও পালন করছেন। নতুন করেও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে সিসিক বলছে, একটি পরিকল্পিত কবরস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
গত শুক্রবার বাদ জুম্মা টিলাতে কবরস্থান জিয়ারতে গেলে দেখা যায়, এক্সেভেটর দিয়ে টিলার পশ্চিমাংশে কবর ড্রেসিংয়ের কাজ চলছে। এসময় জিয়ারত করতে গিয়ে নগরের জেলরোডের এক ব্যবসায়ী পান একটি মরদেহের মাথার খুলি। যা জমে থাকা আবর্জনার স্তুপে পড়েছিল। আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি হাড়গোড়, দাঁতের কপাটসহ দেহাবশেষ দেখেছেন। মাঝেমাঝে দেহাবশেষ পাওয়া যায় পাশের রাস্তাতেও। এসবের স্থিরচিত্র ও ভিডিও বিভিন্নমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মানুষ অবিলম্বে সাধারণ শ্রমিকের মাধ্যমে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন।
এরআগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক্সেভেটর দিয়ে কবরস্থান ড্রেসিং ও টিলাকাটার সময় সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন কাজীটুলা, উত্তর কাজীটুলা, মীরবক্সটুলা, কুমারপাড়া, সওদাগরটুলা, চারাদিঘীরপাড়, হাজারীবাগ, শাহী ঈদগাহ, উঁচাসড়ক, মক্তবগলি, লোহারপাড়া, রায়নগরসহ নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা। তারা সনাতন পদ্ধতি শ্রমিক দিয়ে পবিত্রতার সাথে সংস্কার কাজ, কবর পরিচর্যার কাজ করার দাবি জানান। এ প্রেক্ষিতে এক্সেভেটর সামনের দিক থেকে সরিয়ে টিলার ভিতরের অংশে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। ভিতর দিকের সম্পন্নকৃত মাটি ড্রেসিং ও টিলা কাটার কাজ চালানো হয় এক্সেভেটর দিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা তারেক আহমদ চৌধুরী ও মিসবাহ উদ্দীন আহমদ বলেন, পুনরায় এক্সেভেটর দিয়ে কাজ করায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে মানুষের কবর। মাথার খুলি, হাড়গোড়, দাঁতের কপাটসহ দেহাবশেষ এবং কবরের বাঁশ, ছাটাই, কাফনের কাপড়ও পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছিলেন, কবরস্থানের উপর রাস্তা নির্মাণ করা হবে না। হলে সেটি হবে ৪/৫ ফুটের। কথা রাখা হয়নি। অবিলম্বে নির্মিত রাস্তাটি সরু করার দাবি জানাচ্ছি। কাউন্সিলরও আমাদের দাবির সাথে একমত। দাবি পূরণ না হলে আমাদের আমরা কঠোর কর্মসূচি দিবো।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেছেন, একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় কবরস্থান উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। এতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দাফন করা সম্ভব হবে। শৃঙ্খলা আসবে। মাঝেমাঝে দেহাবশেষ পাওয়া গেলে সেগুলো সম্মানের সাথে পুনরায় কবরস্থ করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ-০১




