সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হাওরগুলোতে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওর ও মই হাওরের বাঁধের অনেক স্থানে এখনও মাটিই পড়েনি। দায়সারাভাবে বাঁধগুলোতে মাটি ফেলে সরকারি টাকা লুটপাট হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
২০২১ এর ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধগুলোর কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে কাজের সিকিভাগ কাজ হয়নি। পরে দ্বিতীয় দফা চলতি মার্চ মাসের ১৫ তারিখ কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও এই সময়ের মধ্যেও বেড়িবাঁধগুলোর অর্ধেক কাজও এখনও শেষ হয়নি।
সরেজমিনে নলুয়া ও পাশ্ববর্তী মই হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধগুলোতে দায়সারাভাবে বালুমাটি এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী রোলার ড্রেসিং কিছুই হয়নি। বাধঁগুলোর দু-পাশে ঘাস লাগানো হয়নি। আবার বাধঁ গুলোর অনেক স্থানে এখনও মাটি পড়েনি। দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন।
পাউবোর স্হানীয় প্রকৌশলী হাসান গাজীর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এছাড়া পিআইসির অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে এলাবাসীর নানা প্রশ্ন। দেখা গেছে ঘুরেফিরে প্রতিবছর একই ব্যক্তি দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে। ওই কর্মকতার সাথে এদের রয়েছে যোগসাজশ। অনেকেই বলছেন- এটা তাদের একটি সিন্ডিকেট।
জবাবদিহিতা না থাকায় লুটপাট করেও ওরা পার পেয়ে যায়। হাওরের বেড়িবাঁধগুলোর কাজ সুস্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।
নলয়া হাওর ঘুরে দেখা যায়, নলুয়ার হাওরের ফোল্ডার-১ এর আওতাধীন ১ নম্বর প্রকল্পে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে এখনও মাটি পড়েনি। ওই প্রকল্পের তেলিকোণা পাকা সড়কের নিকট থেকে নয়াবাড়ী, নোয়াগাঁও ও কান্দারগাঁও এলাকায় এখনও মাটি পড়েনি। ৫, ৬. ৭ ও ৮ নম্বর প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র মাটি ফেলে রাখা হয়েছে ।
নলুয়া হাওরের এক নম্বর প্রকল্পের সভাপতি ও কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, মাটি কাটার মেশিন নষ্ট থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে কাজে। তবে আমরা দ্রুত কাজ শেষ করে দেবো।
৬নং প্রকল্পের সভাপতি ছাদিকুর রহমান বলেন, আমার প্রকল্পে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮শ’ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যে পুরো কাজ করে দেবো।
জগন্নাথপুর হাওর উন্নয়ন পরিষদের আহবায়ক ও ছিলাউরা- হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমার ইউনিয়ন হচ্ছে হাওরবেষ্টিত নলুয়া ও মই হাওরের মধ্যখানে। এখানকার ৯০% মানুষ ই কৃষক। আমার এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কার নিয়ে পাউবো ও প্রশাসনের কেউ আমার সাথে আলাপ করেনি। তাদের ইচ্ছামতো কমিটি করা হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ- সরকার মোটা অংকের বরাদ্ধ দিলেও নামমাত্র কাজ করে লুটপাট করা হয়। জবাবদিহিতা না থাকায় প্রতিবছর দৃশ্যমান দুর্নীতি করেও দুর্নীতিবাজরা পার পেয়ে যায়। আমার এলাকায় অনেক বাঁধ দায়সারাভাবে করা হয়েছে।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জগন্নাপুরে এবার ২৮টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনের মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেছে সাড়ে তিন কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও ২য় দফা ১৫ই মার্চ সময় বেধে দিলেও এখনও পুরো কাজ হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের মাটি কাটার কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে পিআইসিগুলোকে দুই কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজেদুল ইসলাম বলেন, হাওরের বেড়িবাধঁগুলোর কাজ আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার জন্য পিআইসিগুলোকে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / সানোয়ার / ডি.আর




