মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা গ্রামের বালুর ঘাটে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলো একটি অসাধু চক্র। অবশেষে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তৎপরতায় সেই ঘাট থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার (৭ জুন) থেকে সেই ঘাট থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাজীপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ বকস।
জানা যায়, এক সময়ের খরস্রোতা মনু নদীর তীরবর্তী গ্রাম কটারকোনা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে নদীগর্ভ থেকে উচ্চ শব্দযুক্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক, সেতু, নদীবাঁধ, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি। এক সময়ের আশীর্বাদ নদী এখন হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের কারণ। এ বালু সিন্ডিকেটে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকার কারণে বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়ে কোনো সুফল পাচ্ছিলেন না গ্রামবাসী।
বিশেষ করে বালু ঘাটের পার্শ্ববর্তী নয়াবাজার কৃঞ্চ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বকসের নির্দেশনায় এলাকাবাসী ঐক্যবন্ধ হয়ে ওই চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমনকি গ্রামের সড়কে যাতে ট্রাক প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বাঁশ দিয়ে আটকে দেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের ওপর নির্মিত সড়ক ভেঙে গেছে। যা এখন মানুষের চলাচলের অনুপযোগী। বাঁধে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় গর্ত। দিনরাত অনবরত চলা নদীর ড্রেজার মেশিনের কম্পন আর বায়ুদূষণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। কারও ঘরে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। আবার কারও কৃষি জমি ভেঙে চলে গেছে নদীতে। পাশেই অবস্থিত নয়াবাজার কৃষ্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ। সেখানেও শিক্ষার্থীরা শব্দদূষণের কারণে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারে না। গ্রামীণ ছোট রাস্তা দিয়ে বালুবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারে না।
এদিকে, এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি কটারকোনো গ্রামের ওই বালুঘাট পরিদর্শনে আসেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীও। এ সময় এলাকাবাসী ও বালুমহালের ইজাদারদের সাথেও কথা বলেন তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার নির্দেশনা দেন। ওই নিদের্শনা অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ বকস উভয় পক্ষ নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যেসব বালু উত্তোলন করা হয়ে; সেই বালুগুলো নেয়ার পর ফের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে ওই বালুর ঘাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
হাজীপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ বকস সিলেটভিউকে বলেন, উভয় পক্ষের সাথে বৈঠক করেই ৭ জুন থেকে ওই বালু’র ঘাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শিগগিই কটারকোনা গ্রামের ওই রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / কেআরএস / ডি.আর




