সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। দুই দিন পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের তোড় কমে আসায় পরিস্থিতি এখন উন্নতি হতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানিও।
তবে এখনও বন্যার পানি পৌরসভার প্রতিটি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে ডুবে আছে অধিকাংশ দোকান। বাজার ব্রিজ হতে থানা পয়েন্টের রাস্তাটি ভেসে থাকায় রাস্তাটিতে চলেছে বেচাকেনা। কালনী ব্রিজে রাখা হয়েছে বাস, লাইটেজ, কারসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ী। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের সংকট রয়েছে অধিকাংশ পরিবারে। কালনী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যার পানিতে বাসাবাড়ি ডুবে গিয়েছিল। এখনও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানের বাসিন্দারা।
এদিকে সরেজমিন দেখা যায় পৌরসভার মজলিশপুর, ঘাগটিয়া, উপজেলা, হারনপুর, রাজাপুর, আনোয়ারপুর, দোওজ, চন্ডিপুর, পূর্ব দিরাই, সুজানগর, কর্ণগাওসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে।
.jpg)
অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ গ্রামের বাড়িতে হাটু পানি হতে কোমর সমান পানি। বাসাবাড়িতে পানি উঠায় মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বন্যার পানির কারণে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে পানি কমতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। পৌরসভার সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দিরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জালাল সিটি সেন্টার, সেন মার্কেট, বিএনপি কার্যালয়, বিভিন্ন আবাসিক হোটেলসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজে দুইতালা বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার শরনার্থীরা। প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
হারনপুর গ্রামের দিপু বণিক বলেন, দুই দিন ধরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও অধিকাংশ বাসাবাড়ি ও রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। আমার বাসায় সিলিন্ডার গ্যাস ছিলনা সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গিয়ে বিপাকে পরে যাই। সিলিন্ডার গুলো ২ হাজার, ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা, অনেক কষ্টে ২৫০০ টাকা দিয়ে একটা সিলিন্ডার গ্যাস কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আর বলেন, ‘বন্যায় সব ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্না করতে পারছে না অনেকে। শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছে তারা।’
অনিল দাস বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কেরোসিন, মোমবাতি বাজারে কিনতে গিয়ে অনেকে পাচ্ছেনা। পেলেও দোকান মালিকরা দাম রাখছেন বেশি।
.jpg)
তিনি বলেন, এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী আলু, চিড়া, চিনি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সুযোগে কিছু লোক জেনারেটর চালিয়ে মোবাইল চার্জ করতে প্রতি মোবাইল ৫০ টাকা থেকে ১০০টাকা নিচ্ছেন।
সঞ্জয় দাস ও দিপু দাস বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ীতে ধান রয়েছে কিন্তু এখনও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় যেতে পারছি না। নৌকাও পাচ্ছিনা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-৩০




