মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট বিভাগসহ সারা দেশের ২৩২টি চা বাগানে শ্রমিকদের ধর্মঘট চলছে। নিরসনে চা শ্রমিক নেতাদের সাথে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। তবে হয়নি কোনো সমাধান। ফলে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকরা। 

এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ৩০০টাকা মজুরি দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিকরা ফিনলে চা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে হাজার হাজার শ্রমিকরা জড়ো হন। এ সময় তারা চা-বাগানের সড়কগুলোয় অবস্থান নিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেন। 


এ সময় চা শ্রকিদের উদ্দেশ্য করে নেতারা বলেন, ‘আমরা সমঝোতা বৈঠকে যাচ্ছি। আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান।’

চুনারুঘাট চা বাগানের নারী শ্রমিক নেত্রী খায়রুন আক্তার বলেন,‘আমরা আন্দোলন করতে চাই না। কিন্তু মালিকপক্ষ আন্দোলন করতে বাধ্য করছে। ৩০০ টাকা মজুরি দাবি মেনে নিলে আন্দোলন ছেড়ে দিব।’

উল্লেখ্য, চা বোর্ডে তথ্য দেশে ১৬৭ টি চা বাগান রয়েছে। আর দেশের ফাঁড়ি বাগান মিলে ২৪১টির চা বাগানে বসবাসরত প্রায় ১০ লক্ষ চা শ্রমিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা বলেন, গত ১৯ মাস ধরে চুক্তি নবায়ন নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিক নেতাদের দর কষাকষি চলছে। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের মজুরী ১২০ টাকা থেকে ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যা শ্রমিকরা কোনো ভাবেই মানছে না। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ভরা মৌসুমে চা শিল্পে অস্থিরতা তাদের মোটেও কাম্য নয়। গত ১লা আগস্ট ইউনিয়ন কার্যকরি কমিটি ও ভ্যালি কমিটি সমূহের যৌথ সভায় সাত কর্মদিবসের মধ্যে মজুরী বৃদ্ধির বিষয়টি শ্রমিকদের কাছে গ্রহন যোগ্য সুরাহা ব্যবস্থা না হলেও শ্রমিকদের সাথে নিয়ে ন্যায় সংগত মজুরি আদায়ের জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তাই বর্তমানে চা শিল্পের এই অচলাবস্থা নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন তাঁরা।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / সাইফুল / ডি.আর