জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সিলেটে লাগামহীনভাবে বেড়েছিল ডিম ও পোলট্রি মোরগের দাম। তবে গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ডিম আমদানি করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ডিম ও পোলট্রি মোরগের দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে, সিলেটে ডিম ও পোলট্রি মোরগের বাজারে সুবাতাস বইলেও দাম বেড়েছে লেয়ার (লাল মোরগ), কোয়েল পাখি ও সোনালি মোরগের দাম।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন- পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে মোরগ ও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হাঁসের ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মোরগ ব্যবসায়ীরা। তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানান।
শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন মোরগ ও ডিমের বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মহানগরীর লালবাজারের ব্যবসায়ী রমজান মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান- আগে লাল মোরগের দাম ছিলো ৪৫০-৪৮০ টাকা, বর্তমানে ৫৫০-৫৮০ টাকা। ব্রয়লার (পোলট্রি) মোরগের কেজি ছিল ২০০-২১০ টাকা, কিন্তু কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকা। তবে পাইকারি যারা নেন তাদের কাছ থেকে ১৫৮-১৬০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মোরগ কেজি ধরে ২৬০-২৬০ টাকা ছিল, কিন্তু এখন বেড়ে ৩২০-৩৩০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০ গ্রাম ওজনের একেকটি কোয়েল পাখির বর্তমান দাম ৩৫-৫০ টাকা। তবে কয়েকদিন আগেই ছিল ওই ওজনের কোয়েল পাখির দাম ২৫-২৮ টাকা।
দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে রমজান মিয়া বলেন- ‘আমরা খামারিদের কাছ থেকে মোরগ কিনি। তারা দাম বাড়িয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তবে আমরা বিদ্যুতের জ্বালায় বাঁচি না। প্রতিদিনই ৫-৭ টা মোরগ মরে যায়। কারেন্ট থাকে না। কারেন্টের কারণে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক হচ্ছে। আমরা বাঁচি না। আমাদের বাঁচাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার দাবি জানাই।’
অপরদিকে, লাফ দিয়ে বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম সম্পর্কে লালবাজারে আজাদ স্টোরের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন- ‘কয়েকদিন আগে প্রতিটি ডিম ১২-১৩ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে ডিমের দাম কমে প্রায় আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে ৯-সাড়ে ৯টা টাকা ধরে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে। তবে লাল মোরগের ডিমের দাম কমলেও হাঁসের ডিমের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিটি হাঁসের ডিম প্রায় ১২-সাড়ে ১২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’
প্রতিদিনই ডিমের দাম কমছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ সিলেটভিউ-কে বলেন- আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। কোথাও অসঙ্গতি পেলে ব্যবস্থা নেই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / মুন্না / ডি.আর




