৩২০ একরের সবুজে ঘেরা বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শিক্ষার্থীদের অর্ধশতাধিক সংগঠন রয়েছে। আছে সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রয়েছে মানসিক আনন্দের জন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গন। এছাড়া খেলাধুলা, বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণা এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের রয়েছে আলাদা প্লাটফর্ম। এমনি একটি স্বেচছাসেবী সংগঠন ‘কিন’।
চ্যারিটি, সামাজিক সচেতনতা, শীত ও ঈদবস্ত্র সংগ্রহ, রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণ এবং সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে ‘কিন স্কুল’ নামক পাঁচটি উইংসে কার্যক্রম পরিচালনা করছে শাবি শিক্ষার্থীদের এ সংগঠনটি। পাঁচটি উইংসের মধ্যে অন্যতম হল এই ‘কিন স্কুল’। ১৮ বছরেও পাঠদান উপযোগী কোনো জায়গা না পাওয়ায় এই স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ও কিন স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সংকট নিয়ে কথা বলেন তারা। সদস্যরা জানান, কিন স্কুলে বর্তমানে দুশতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। পাঠদান উপযোগী জায়গা না থাকায় বর্তমান শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বারন্দায় ক্লাস কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ভবনে কিংবা খোলা জায়গায় ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। শুরুর দিকে সি বিল্ডিংএর গ্রাউন্ডে, আইআইসিটি ভবনে এবং মিলনায়তনের বাহিরেসহ পাঠদান অনুপযোগী বিভিন্ন জায়গায় ক্লাস নিতে হয়েছে।
বারবার জায়গা পরিবর্তনের ফলে কিন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মানসিক দিকের পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে সদস্যরা বলেন, পরে স্কুলে আসতে তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। এছাড়া কিন স্কুলে যারা স্বেচছায় শিক্ষার্থীদেরকে পড়াতে আসে তাদেরও আগ্রহ হারিয়ে যায়। তবে সারাদিন ক্লান্তির পর কিন স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে সময় দেওয়া ও পড়ানোর মাধ্যমে আত্মার যে শান্তি পাওয়া যায় তা আত্মতৃপ্তিতে পরিণত হয় বলে কিনের সদস্যরা জানান। তাই উপযোগী একটি জায়গা থাকলে ওই স্কুলের অগ্রগতি সাধিত হবে বলে মনে করেন তারা। একইসাথে অবসর সময়ে এখানে নির্বিঘে্ন সেবা দিতে পারবেন।
তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বছরের পর বছর জানানো হলেও বিষয়টি এখনও আলোর মুখ দেখিনি বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ইফরাতুল হাসান রাহিম।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে থাকি। প্রশাসনের কাছে আমরা বিভিন্ন সময় স্কুলের জন্য উপযোগী একটি জায়গার দাবি জানিয়েছি। যখনই প্রশাসনের কাছে গিয়েছি শুধু আশ্বস পেয়েছি। কোনো আশ্বাস আলোর মুখ দেখেনি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন বলেন, কিনের সদস্যরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশাসনের আশ্বসের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের একটি জায়গায় ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখানে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠান থাকার কারণে ক্লাস নিতে সমস্যা হয় বলে তারা জানিয়েছে। কিনের সদস্যদের বলেছি আর কোন কোন জায়গায় ক্লাস নেওয়া যেতে পারে, এমন কয়েকটি জায়েগা বের করার জন্য। তারা আমাকে তিন চারটা জায়গার কথা বলেছে। তবে এ জায়গাগুলোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সাথে এখনও কথা বলতে পারিনাই। কথা বলে কয়েকদিনের ভিতরেই তাদেরকে জানাবো।
সিলেটভিউ২৪.কম/নোমান/মাহি




