গতকাল সোমবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় জেলা পরিষদ নির্বাচন। সিলেটেও উৎসব মুখরপরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে সিলেটে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও মৌলভীবাজারের মিছবাহুর রহমান।

বিভাগের অন্য দুই জেলা- সুনাগঞ্জ ও হবিগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল হুদা মুকুট পুন:নির্বাচিত হয়েছেন আর হবিগঞ্জে পুন:নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা: মুশফিকুর রহমান। চার জেলায় সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ছিলো সিসি ক্যামেরা।


সিলেট::
চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় সিলেটে অনেকটা নিরুত্তাপ ছিলো জেলা পরিষদ নির্বাচন। কেবল সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী সিলেট জেলা পরিষদের ১ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন রওশন জেবিন রুবা। তিনি ২৫৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। ২ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন সুষমা সুলতানা রুহি। তিনি দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৩২ ভোট। ৩ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে হাসিনা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে ১৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা আফরোজ মাইক প্রতীক নিয়ে ৬৫ ভোট পান। ৪ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন তামান্না আক্তার হেনা। ৫ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন মনিজা বেগম। তিনি হরিণ প্রতীকে ১৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে সিলেট জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মাওলানা মো. মুছাদ্দিক আহমদ বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে মতিউর রহমান মতি হাতি প্রতীকে ৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি সৈয়দ মকবুল হোসেন টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ১০ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা) আওয়ামী লীগ নেতা নাহিদ হাসান চৌধুরী বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৩৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি শাহিদুর রহমান রুমান তালা প্রতীক নিয়ে ২৮টি ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও আরেক প্রার্থী আবদুল আউয়াল কয়েস হাতি মার্কায় পেয়েছেন ২৪টি ভোট। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (বালাগঞ্জ উপজেলা) আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাসির উদ্দিন টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে লড়াই করে বিজয়ী হয়েছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে (ওসমানীনগর উপজেলা) আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সিএনজি অটোরিকশা প্রতীকে ৪৩টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ডে (বিশ্বনাথ) উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ ৭০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি সহল আল রাজি চৌধুরী বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩১টি ভোট। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (গোলাপগঞ্জ উপজেলা) আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়জুল ইসলাম ফয়ছল বৈদ্যুতিক পাখা মার্কায় ৬৯টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম. মুজিবুর রহমান মুজিব তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৩১টি, সমাজসেবী মো. ফজলুর রহমান জসিম ঘুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৮টি ও আওয়ামী লীগ নেতা স্যায়িদ আহমদ সুহেদ অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫টি ভোট। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে (বিয়ানীবাজার উপজেলা) খসরুল হক খসরু উট পাখি প্রতীকে ৪৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে (জৈন্তাপুর উপজেলা) মোহাম্মদ শাহজাহান টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৬টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে মো. মুহিবুল হক তালা প্রতীকে ৪৯টি ও মোহাম্মদ নুরুল আমিন অটোরিকশা প্রতীকে ১২টি ভোট পেয়েছেন। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে (গোয়াইনঘাট উপজেলা) সুবাস দাস হাতি প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেন। ১১ নম্বর ওয়ার্ড (কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের আংশিক) আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব আলী কালা মিয়া অটোরিকশা প্রতীকে ৭২টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬টি ভোট। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে (কানাইঘাট উপজেলা ও জকিগঞ্জের আংশিক) আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশ বিজয়ী হয়েছেন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে (জকিগঞ্জ উপজেলা) ইফজাল আহমদ চৌধুরী টিউবওয়েল প্রতীকে ৬৫টি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে মোহাম্মদ শামীম আহমদ বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৪৯টি ও আবদুর রহমান তালা প্রতীকে ৩টি ভোট পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জ::
 সুনামগঞ্জ থেকে শাহজাহান চৌধুরী জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রপ্রাথী ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন ঘোড়া প্রতীকে ৬০৪ ভোট পেয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেছেন।
জেলার ১২টি উপজেলা ও ৪টি পৌর সভায় মোট ভোটার ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে দুইটি ভোট অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচিতরা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ড(ধর্মপাশা ,মধ্যনগর, তাহিরপুর ও বিশ^ম্ভরপুর) সেলিনা বেগম (হরিণ), ২ নম্বর ওয়ার্ড(দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ) বীনা জয়নাল(টেবিলঘড়ি), ৩ নম্বর ওয়ার্ড(সদর, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ফৌজি আরা বেগম, ৪ নম্বর (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) মোছা: নূরুন নাহার ( হরিণ)।

সাধারণ সদস্য পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ড (ধর্মপাশা) চন্দন খান, ২ নম্বর ওয়র্ড (মধ্যনগর) মো. আব্দুস সালাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড (তাহিরপুর) মো. মজিবুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড (বিশ^ম্বরপুর) মো. হোসেন আলী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড (জামালগঞ্জ) দ্বিপক তালুকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ড (দিরাই) রায়হান মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড (শাল্লা) টিকেন্দ্র চন্দ্র দাস, ৮ নম্বর ওয়ার্ড (জগন্নাথপুর) মাহতাব উল হাসান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড (শান্তিগঞ্জ) মনিরুজ্জামান বারী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড (সুনামগঞ্জ সদর) মো. মনির উদ্দিন, ১১ নম্বর ওয়ার্ড (দোয়ারাবাজার) মো. আব্দুল খালেক ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড (ছাতক) সাহেদ মিয়া।

হবিগঞ্জ::
 হবিগঞ্জ থেকে মনসুর উদ্দিন ইকবাল জানান, জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯৬১ ভোট। অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির মোল্লা আবু নাইম মোঃ শিবলী খায়ের ৭৭ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নুরুল হক ৪৩ ভোট পেয়েছেন।

সাধারণ সদস্য পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন, মোঃ ফেরদৌস মিয়া (২৭ ভোট). মোঃ ইমরান মিয়া (৮৬), শেখ মুহাম্মদ শফিকুজ্জামান (১০৬), মোঃ জসিম উদ্দিন (৩২), মোঃ নূরুল আমিন ওসমান (৬৭), মোঃ আব্দুল আজিজ (৩৫), আলাউর রহমান সাহেদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), সৈয়দ মোঃ শামীম আনোয়ার (৯৬), মোঃ আইউব আলী (৭৯)। সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে যারা নির্বাচিত হলেন, শিরীনা আক্তার (২১৩), শাম্মী আক্তার সুমি (৯৭), রাহেলা খাতুন (২০০)। জেলা পরিষদের মোট ১১০৪ জনের মধ্যে ১০৮৫ জন ভোট দেন। ৪টি ভোট বাতিল হয়েছে। জেলায় ৯টি উপজেলায় একটি করে ভোট কেন্দ্র ছিল।

মৌলভীবাজার::
মৌলভীবাজার থেকে হোসাইন আহমদ জানান, জেলা পরিষদের নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত ৭ উপজেলার ৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দু’জন প্রার্থীই সমান ভোট পান। পরবর্তীতে লটারীর মাধ্যমে হাসান আহমদ জাবেদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ সদস্য পদে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় হাসান আহমদ জাবেদ, কমলগঞ্জে অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন, শ্রীমঙ্গলে মশিউর রহমান রিপন, কুলাউড়ায় বদরুল আলম নানু, জুড়ীতে বদরুল ইসলাম, বড়লেখায় আজিম উদ্দিন এবং রাজনগরে জিয়াউর রহমান।

সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে হেলেনা চৌধুরী, সদর-রাজনগর উপজেলা থেকে রাকিবা সুলতানা তালুকদার ও বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া উপজেলা থেকে শিরিন আক্তার চৌধুরী মুন্নী নির্বাচিত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিছবাহুর রহমান ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এখানে শুধু ৭টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৩টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে এই নির্বাচন হয়। ৭টি কেন্দ্রে ৯৫৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

তবে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী আগেভাগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় এখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন- আমাদের সকল কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে ইভিএম মেশিনগুলোর মাধ্যমে ভোট হয়। মৌলভীবাজার জেলার ৭ উপজেলায় ৭টি ভোট কেন্দ্র ছিল। এ গুলোর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ৭ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসাররা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম