মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিলেটের জৈন্তাপুরে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর অবৈধভাবে বিক্রির পর সেটি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে সেটি উদ্ধারের পর এতে তালা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন হিসেবে জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের নিজপাট মজুমদারপাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে শিরিন আক্তার তার ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি মৌজায় ২ শতক ভূমির উপর একটি ঘর বরাদ্দ পান। গেল বছরের ১৯ জুন তিনি ঘরটি প্রশাসনের কাছ থেকে বুঝে পান। এরপর তিনি নিজেকে ওই ঘরের মালিক দাবি করে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলাম মনু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে ঘরটি এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। আনরেজিস্ট্রার্ড দলিলে তিনি ১৯ বছর ধরে ওই জায়গার মালিক বলে দাবি করেন। টাকা দেওয়ার পর জায়গা ও ঘরের মালিক সরকার এটা বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চান। তখন শিরিন আক্তার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। 


বিষয়টি নিয়ে গত ৬ ডিসেম্বর সিলেটের শীর্ষ পাঠকপ্রিয় নিউজ পোর্টাল www.sylhetview24-এ ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর লাখ টাকায় বিক্রি!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রকাশিত হয় সংবাদ। এতে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ওই ঘরে অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) রিপামনি দেবী। সরজমিনে অভিযানের গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরক্রেতা জেসমিন বেগমকে দখলে পাওয়া যায়। এসময় জেসমিন বেগমকে দ্রুত ঘর খালি করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরে এ ঘরের দরজায় তালা দিয়ে রাখে প্রশাসন।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও নিজপাট ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (এসিল্যান্ড) রিপামনি দেবী জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিক্রয়ের বিষয়টি জানতে পারার পর আজ অভিযান চালিয়ে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তা জব্দ করা হয়েছে। গোয়াবাড়ী এলাকার অন্যান্য সরকারি ঘর এভাবে বিক্রয় হয়েছে কি না তদন্ত চলছে। যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে তারা ঘরে বসবাস করছে কি না বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ বসবাস করছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / সাব্বির / ডালিম