সিলেটের জকিগঞ্জে হামলাকারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল মুকিতকে (৩০) সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসক ও জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বরখাস্তকৃত আব্দুল মুকিত বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েকৃত মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তিনি উপজেলার ৫ নং সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য ও ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে, আব্দুল মুকিত সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি একই নোটিশে ‘তাকে কেন স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না’ এ মর্মে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জিআর ৩৮/২২ মামলার অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৩৪ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে জকিগঞ্জ সদর ইউপির বহিস্কৃত মেম্বার ৯ মাস ধরে জেলবন্দী রয়েছেন। মামলা জনিত কারণে স্থগিত করা হয় তার সদস্যপদ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জকিগঞ্জ সদর ইউপি’র ৪ নং ওয়ার্ডের কোন সদস্য না থাকায় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্ধারা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা যায়, আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে গত বছরের ৩১ মার্চ ছবড়িয়া গ্রামস্থ গফুর ভেরাইটিজ স্টোরে সন্ত্রাসী হামলা করা হয়। এসময় বৃদ্ধসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন। হামলায় আহত হন- উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর, আব্দুল গফুরের ছেলে দিদারুল ইসলাম, আব্দুল গফুরের স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা ও ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদ।
আহতদের মধ্যে বৃদ্ধ আব্দুল গফুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থাও গুরুতর ছিলো। তাকেও ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যরার স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আহতরা সুস্থ হন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়- জকিগঞ্জ উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে ও বর্তমান ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা-মামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই দিন আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একই গ্রমের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে খুন করার চেষ্টা চালায়। জাবের নিজেকে রক্ষা করতে দৌঁড়ে গ্রামের আব্দুল গফুরের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এসময় আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগীরা দোকানে গিয়ে জাবেরকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে আব্দুল গফুর বাঁধা দেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মুকিত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল গফুরের মাথায় একাধিক কোপ দেয়। এসময় আব্দুল গফুর মাটিতে লুটে পড়লে সন্ত্রাসীরা কাঠের রোল ও রড দিয়ে বেদম পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে।
চিৎকার শুনে আব্দুল গফুরকে উদ্ধার করতে তার ছেলে দিদারুল ইসলাম ও স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা এগিয়ে আসলে আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকেও মারধর করে। এসময় দোকানের ক্যাশ থেকে দেড়লাখ টাকা লুট করে নিয়ে চলে যায় আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থা আশংকজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে, এ ঘটনায় আব্দুল গফুরের ছেলে জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে গত বছরের ১ এপ্রিল ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতকে প্রধান আসামি করে ও ৫ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন করেন।
এজাহারভুক্তরা হচ্ছেন- সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ছবড়িয়া গ্রমের মাসুক উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মুকিত, কেই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলী মখনের ছেলে শামীম আহমদ, মাসুক উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মুতলিব মৃতুল, মৃত মনই মিয়ার পুত্র হারুণ আহমদ ও মারুফ আহমদ।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী শমীম আহমদ ও হারুণ আহমদকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত দীর্ঘদিন থাকেন ধরাছোয়ার বাইরে। তবে অবশেষে গত বছরের ২২ মে আব্দুল মুকিত সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জকিগঞ্জ) আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
এদিকে, জেলহাজতে থাকা অবস্থায় স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবার আব্দুল মুকিত ইউপি সদস্য পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




