দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশের মতো সিলেটের রাজনীতিতেও বেশ আলোচিত হয়ে উঠে বিএনপির নেতা (মরহুম) নাজমুল হুদার প্রতিষ্ঠিত দল তৃণমূল বিএনপি। বীর বিক্রম মেজর (অব.) শমসের মুবিন চৌধুরী দলটির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এ আগ্রহের মাত্রা বাড়ে বহুগুণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিলেটে তৃণমূলেই (সাধারণ ভোটারদের কাছে) উপেক্ষিত হলো ‘তৃণমূল বিএনপি’। ভোটের মাঠে দলের তিনজন আলোচিত প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। হারিয়েছেন জামানতও।
 

কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত ‘তৃণমূল বিএনপি’ সিলেটের ১৯ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১১ টিতে প্রার্থী দেয়। এরমেধ্য সিলেটের ৬ টি আসনের সবকটিতেই প্রার্থী ছিলো। আর সুনামগঞ্জের ৫ টির আসনের মধ্যে ২ টি, মৌলভীবাজার ৪ টি আসনের মধ্যে ১ টি আর  হবিগঞ্জের ৪ টি আসনের মধ্যে ২ টিতে প্রার্থী ছিলো।
 


সিলেটের ১৯ টি আসনের মধ্যে সিলেট-৬ আসনে দলটির চেয়ারপারসন বীর বিক্রম মেজর (অব.) শমসের মোবিন চৌধুরী, মৌলভীবাজার-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী ছিলেন বেশ আলোচিত।
 

বিএনপির এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক জাদরেল কুটনৈতিক শমসের মোবিন সিলেট-৬ আসন থেকে সোনালী আঁশ প্রতীকে ১০ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন। এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি ৫৭ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী, কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন (ঈগল) ৩৯ হাজার ৪৮৮ ভোট। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৭০২টি।
 

বিধান অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবে জামানত বাঁচাতে তার প্রয়োজন ছিল অন্তত ১৪ হাজার ৫৮৭ ভোটের।
 

২০১৫ সালে বিএনপি খেকে পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত শমসের মোবিন চৌধুরী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিকল্পধারার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
 

শমসের মোবিনে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়ে ছিলো গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে দলটির একটি অংশ তাঁর পক্ষে কাজ করেন।
 

মৌলভীবাজার-২ আসনের তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী এম এম শাহীন ১১ হাজার ৪৪৯ ভোটে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এ আসনে নৌকার প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ৭২ হাজার ৭১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
 

তৃণমূল বিএনপি'র প্রার্থী এম এম শাহীন জানান, কেন্দ্রে কেন্দ্রে অনিয়ম এবং জাল ভোট দেয়া হয়েছে। প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার নিশ্চিত জয় কেড়ে নেওয়ার কারণে আমার পরাজয় হয়েছে।
 

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে তৃণমুল বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরীর ৪ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও পরকিল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৯৮ ভোটে ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
 

এ ব্যাপারে শাহীনূর পাশা বলেন, যা ঘটেছে অবিশ্বাস্য। যা বলা হয়েছিল তা করা হয়নি। নির্বাচনের দিন বিকেল ২টার মধ্যেই সরকারী দলের লোকেরা আমার এজেন্ট দের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করা হয়। এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত বলবো।
 

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করলে এ শুন্য আসনে উপনির্বাচন ঘোষণা হয়। উপনির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট থেকে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা শাহীনূর পাশা চৌধুরী জয়লাভ করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনূর পাশা চৌধুরী।



সিলেটভিউ২৪ডটকম /মাহি/ডি.আর/এসডি-২২৬