“দেশ ও জনগণের স্বার্থ”- কথাটি সবার আগে আসবে, অবশ্যই সর্বাগ্রে, এখানে কম্প্রোমাইজের কোন সুযোগ নেই। পিতা-মাতা আদরের সন্তানকে প্রহার করেন, কিন্তু কেন? তাঁরা কি নিষ্ঠুর?
আমরা কি ভুলে যাবঃ “স্পেয়ার দ্য রড, স্পয়েল দ্য চাইল্ড”, অর্থাৎ সিঙ্গলটি ভেঙ্গে ফেলে দাও, বাচ্চা নষ্ট হওয়ার জন্য তোমাকে আর কোন কষ্ট করতে হবে না।
সবাইকে মনে রাখতে হবেঃ সরকার তো সরকারই, “অন্তর্বর্তীকালীন”, “তত্বাবধায়ক” “গণতান্ত্রিক” “নির্বাচিত”- যা-ই হোক। কোনটাই মাজা-ভাঙ্গা সরকার হতে পারবে না।
তবে, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার”, এরা কি মাজা-ভাঙ্গা সরকার? কি মনে করছেন আপনারা? এরা কি ঘুমটা দেয়া নব-বধূ যে, যার যা ইচ্ছা, সে তা-ই করবে এবং করে বেড়াবে?
কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই দেশি-বিদেশি অনেক ষঢ়যন্ত্র ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে। লুকিয়ে লুকিয়ে নিশ্চয় আরও অনেক ষঢ়যন্ত্র আঁকা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক ষঢ়যন্ত্র দেশবাসীর জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।
তবে যেগুলো ফাঁস হয়েছে, সবই নস্যাৎ হয়েছে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলন ও প্রতিরোধের মুখে।
আজই আমি হঠাৎ শুনলাম পল্লীবিদ্যুতের ষঢ়যন্ত্রের কথা। মন খারাপ না করে বরং কলম ধরলাম, কারণ, প্রতিকূল অবস্থায় বজ্রকঠোর থাকতে হবে। বিড়াল মারতে হবে প্রথম রাতে। দেশি বা বিদেশি কোন প্রতিপক্ষকেই কখনোই, কোন অবস্থায়, দুর্বল এবং নিষ্ক্রিয় ভাবা যবে না।
১৬ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে ৪ বা ৮ বছরও লাগতে পারে। সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পূর্বে কোন রাজনৈতিক দলই নির্বাচন দাবী করতে পারবে না-এটা আমার সোজা কথা। রক্ত দিয়ে বিপ্লব করল শিক্ষার্থী ও আম জনতা, আর কোন রাজনৈতিক দল এখনই ফায়দা লুটবে! তা হতে পারে না।
এতই যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সখ, তো ১৬ বছরে পারলেন না কেন? অন্ততঃ এ দেশে ক্ষমতায় যাওয়া আর হালুয়া-রুটি খাওয়া এক কথা।
আর এখনই নানান ধরনের দাবী-দাওয়া? বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি? কেন! আপনাদের কি নিজস্ব কোন কাম-কাজ নেই? সবাই কি বেকার?
১৬ বছর কোথায় ছিলেন? পদ-লেহন করেছেন? পারলেন না কেন? আমার সাফ কথা=এ সরকারকে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে যথেষ্ঠ সময় দিতে হবে। এরা কি নাইওর এসেছে যে, ৩/৬ মাস পর বদনাম ঘাড়ে নিয়ে চলে যাবে?
হেঁ, চলে যাবে, যখন সময়ই চলে যাওয়ার কথা বলবে ? এ সরকার যতদিন থাকবে, কোন রাজনৈতিক দল কোন ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। কেউ কোন দাবী বা অধিকার নিয়ে আসবেন না, আসতে পারবেন না। অন্তর্বর্তী এ সরকারের উচিৎ, এ মন্ত্র সবাইকে শিখিয়ে দেয়া।
এ সরকার করো কোন দাবী-অধিকার মানতে বা পুরণ করতে ক্ষমতায় আসে নি, বরং এসেছে সাধারন জনগণের সামন থেকে ১৬ বছরের ময়লার বাগাড় সরানোর জন্য, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য, ভোটের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য, পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার জন্য, আদপেই ক্ষমতার লোভে নয়।
যার যত দাবী আছে, আগামী গণতান্ত্রিক সরকার আসলে সব আদায় করবেন-কথাটি স্মরন রাখতে হবে। আনসার, পুলিশ প্রসাশন, বিজিবি, র্যাব, দেশ-প্রেমিক সেনাবাহিনী, সকলে নিঃস্বার্থভাবে, সততার সহিত ও নিঃশর্তভাবে এ সরকারকে সহযোগিতা প্রদান করবেন, পাশে থাকবেন, সকল ষঢ়যন্ত্র উদঘাটন করবেন, আইনী ব্যবস্থা নেবেন।
এ সরকারকে সংস্কার-কাজ করতে হবে ওয়ার্ড-মেম্বার থেকে আরম্ভ করে। বিগত নির্বাচনগুলোর প্রাক্কালে এরাও তাদের গ্রামীন প্রতিপক্ষের উপর গায়েবি মামলা দিয়ে তাদেরকে ঘরবাড়ি-ছাড়া করেছে, জেলে ঢুকিয়েছে, বাধ্য হয়ে এ সমস্থ গরীব গ্রামীন মানুষ অচেনা ঢাকায় গিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, ভিটা-মাটি বিক্রি করে ২ লক্ষ টাকা খরচ করে জামীন এনেছে। আর, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজিলা চেয়ারম্যান, উপজিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকদের ফুটানি আর ক্ষমতার বাহার কে দেখে? এদেরও সুবিচার নিশ্চিৎ করতে হবে।
এ সরকার কি কারো দয়ায় আঙ্গুল চুষতে মসনদে এসেছে? মরনকে বাজি রেখে ছাত্র-জনতা এ সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, হঠিয়েছে স্বৈরশাসনকে। তাদের স্বপ্ন পুরণ করতে এ সরকারকে যা প্রয়োজন, তা-ই করতে হবে।
১৬ বছরের জেল, যুলুম, আয়নাঘরের যুলুম, খুন, গুম, বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সোনার সৈনিক-অফিসারদের পরিকল্পিত হত্যাজজ্ঞ ও যাবতীয় জঞ্জালের বিচার করে সব আগাছা পরিষ্কার করে এ সরকার আগামি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পথ পরিষ্কার ও সুগম করে বিদায় নেবে।
১৬/১৭ বছরে যা পার নি, এ সরকারের কাছ থেকে তা ১৬ দিনে তা আদায় করবে, এ কোন অহ্মকের কথা বা চিন্তা? আহ্মক তো নয়, শেয়াল-চালাক, নিয়ত খারাপ, কুমতলব। এদেরকেও ধরে ধরে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে, এরাই সৈরাচারের দোসর।
কবির কথায়ঃ “দন্ডিতের সাথে, দন্ডদাতা যবে কাঁদে, সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ট সে বিচার”।
দেশে-বিদেশে আপাদমস্তক একজন বিশ^বিদ্যালয়-শিক্ষক হিসেবে, এবং একজন দেশ-প্রেমিক সচেতন সিনিওর নাগরিক হিসেবে আমি নির্দিধায় বলতে চাই, দেশি-বিদেশি সকল ষঢ়যন্ত্রের মোকাবেলায় এ সরকারের পক্ষে যতটুকু কঠোর হওয়া উচিৎ, আপনারা অবশ্যই ততটুকু কঠোর হবেন।
এ পর্যায়ে আমার সরাসরি ও খোলামেলা প্রস্তাবঃ এ সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন কোন কর্নার থেকে কোন ধরনের দাবী-দাওয়া উথ্থাপন আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। যে কোন মহল থেকে যে কোন ধরনের দাবী-দাওয়া উথ্থাপন হলেই বুঝে নিতে হবে “ডাল মে কুচ কালা হায়”। অতএব, এদের জেল হবে আপাততঃ নন-জামীন-উপযুক্ত। পরে বিচারে যা হয় ,হবে।
সব শেষে, বোয়াল মাছ আর পুটি মাছ-কাউকে ছাড়া যাবে না। অতএব এ সরকারের মেয়াদ বা সময় বেঁধে দেয়া যাবে না। একটি সম্মানজনক সময় উনাদেরকে অবশ্যই দিতে হবে। মীশন কমপ্লিট হলেই শুধু, এরা বিদায় নেবে।
লেখক: প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে-বিদেশে ৪6 বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক। বর্তমানে ভিজিটিং প্রফেসর, সিলেট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সিলেট।




