মাত্র প্রায় ৫ মাস। শুনে আসছিলামঃ ছাত্র-জনতার আন্দেলনের সাথে বেইমানি করা যাবে না, রক্তের দাগ এখনো শুকায় নি, সন্তানহারা মাতাপিতার আহাজারি আজও শোনা যাচ্ছে, দৃষ্টি-হারানো ও পঙ্গুত্ব-বরনকারিরা এখনো কাতরাচ্ছে, দুই হাজার বা তদুর্ধ আন্দোলনকারি ছাত্র-জনতা পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনির বুলেটের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন।

 


 


আরও জানা গেলঃ ছাত্রলীগ নাকি নিষিদ্ধ হয়েছে, তারা নাকি আওয়ামি লীগের দুসর, তারা নাকি ১৬ বছর আওয়ামি লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিল, তারা নাকি তাদের সরকারের ছায়াতলে থেকে ফায়দাও লুটেছে অনেক, আওয়ামি লীগ নাকি ফ্যাসিস্ট সরকার, ফ্যাসিবাদি সরকার বা দল, গুম-খুনের সরকার, আয়নাঘর বানানো ও নির্যাতনের সরকার, নির্দোষ আলেম-উলামা-মাশায়েখদেরকে জেলে বন্দী রেখে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়ার সরকার, প্রতিংসার রাজনীতির সরকার।


আরও শুনে আসছিলামঃ আওয়ামি লীগ দুর্নীতিবাজ সরকার, বস্তা বস্তা লুকিয়ে রাখা টাকার সরকার, গোপালি পুলিশের সরকার, বিদেশে টাকা পাচারকারি ও দেশ-বিদেশে হালি হালি ফ্ল্যাট/বাড়ি বানানোর সরকার, তারা নাকি তাদের পেটুয়া বাহিনির গড-ফাদার সরকার, দেশে তারা স্বৈরাচারি সরকার, আর বিদেশে তারা ভারতের তাবেদার সরকার, স্বীয় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার সরকার, ভারতের নতজানু সরকার, মাজা-ভাঙ্গা সরকার, বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর সরকার।

 

 


রাজিনৈতক দলগুলোর ভাষায় ‘খুনি’ হাসিনা সরকার, হাসিনাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ও বলা হয়েছে, যেখানে নিজ দেশের কোটি গ্রাজুয়েট তরুন-তরুনী বেকার, সেখানে ২ লাখ অবৈধ ভারতীয়দেরকে বাংলাদেশে চাকুরি দিয়ে কোটি কোটি হার্ড কারেন্সি ভারতকে দিয়ে দেয়ার সরকার।

 

 


সব সময় শুনে আসছিঃ আওয়ামি লীগ নিজ স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভারতকে করিডোর ও ট্রানিজট দেয়ার সরকার, দাদাগিরিকে উপরে উঠিয়ে দিয়ে স্বীয় মাতৃভ’মিকে নিচে নামিয়ে দেয়ার সরকার, জালিম সরকার, অবৈধ সরকার, রাতের ভোটের সরকার, বিনা ভোটের সরকার, ডামি প্রার্থীরও সরকার, আরও কত কী? সবই তো সত্যি।

 

 


ইদানিং শুনতেছিঃ মানবতা বিরোধী অপরাধে কারো কারো বিরুদ্ধে ২/আড়াই শ’ মামলাও জমা পড়েছে, হাসিনা ছাড়াও প্রায় অর্ধেক নেতা প্রতিবেশি দেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারী অনেক আমলাও তাদেরকে সহযোগিতা করেছেন, কোন কোন নেতা নাকি দেশেই তিন মাস-কাল কারো বাড়িতে লুকিয়েছিলেন, এমন কি সেনানিবাসেও। এখনো নাকি অনেক অপরাধী দেশেই লুকিয়ে আছেন। এটা আমাদের গোয়েন্দা বাহিনির দুর্বলতা, মানে, সরকারের দুর্বলতা।

 


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আরও শুনতেছিঃ খুদ বর্তামান অন্তর্বতিকালীণ সরকারের মধেই নাকি বড় বড় ভুত বসে আছে। প্রশাসনের মধ্যে তো আছেই। এ সরকার কি আজও তার একান্ত এবং আস্থাভাজন একটি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে নি? শুনেছি, অনেক জায়গায় বেচারা পিয়নদেরকেও বদলি করা হচ্ছে। এগুলো কেমন সংস্কার?

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলে যাওয়া/শূন্য হওয়া গুটি কয়েক ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগ দেয়া- এটা কোন সংস্কারই নয়। আর বিদেশ থেকে কিছু ভারি অস্ত্র কেনা, এগুলোও কোন সংস্কার হতে পারে না। এগুলো আসতেছে নোবেবিজয়ী অধ্যাপক ড. মোঃ ইউনুসের বিশ্বপরিচিত, বিশ্বশ্রদ্ধেয় ও বিশ্বনন্দিত ব্যক্তি-ইমেজ এর কারণে। আর, পাকিস্তানী কিছু জাহাজ আসা- এটাও কোন সংস্করের মধ্যে পড়ে না, পড়ে ঐটা, যেদিন ৮ আগষ্টের পর পর তরুনরাই বিচার বিভাগকে সঠিক জায়গায় টিকিয়ে রেখেছিল।

 


শুনেছি, সরকারের বড় বড় কিছু পদেও রদবদলের মাধ্যমে কিছু সংস্কার হয়েছে, কিন্তু মনে রাখতে হবেঃ ১৬ বছরের শিকড়-গাঁথাকে অকস্মাৎ মূলোৎপাটন করা যাবে না। আমি একটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছিঃ 


এই ক’ দিন আগের বিজয় দিবসের দিন আমি শহরে গিয়েছিলাম ব্যক্তিগত একটা কাজে। দুপুর ১২ টার দিকে আমার প্রশ্রারাবের বেগ হল, ভাবলাম কোথায় কাজটা সারা যায়। আমি যেখানে অবস্থান করছিলাম, তার তিন দিকে ৩ টি বড় বড় সরকারি অফিস। একটি অফিসে অনেকগুলো বড় বড় ইমারত। ভাবলাম, ওখানেই যাই, কোন একটা ভবনের নিচ তলায়ই ইউরিনাল পাওয়া যাবে। এগিয়ে দেখি, বিরাটকায় মূল গেইটে তালা ঝুলছে। তবে পকেটগেইট খোলা। দেখি, এর ভেতরে কিছু যুবক দাঁড়িয়ে জটলা বেঁধে আছে। জিজ্ঞেস করায় তারা বলল “ তাদের একটি বিজয় মিছিল আসবে, অপেক্ষা করছে। তবে ইউরিনাল কোথায় আছে বলতে পারবে না। 


এমন সময় একজন মধ্যবয়ষী লোক এসে হাজির হলেন। আমার প্রয়োজনটির কথাটা উনাকে বলায় উনি আমাকে বললেন, নিচ তলায় বাথরুম সকল ভবনেই আছে, তবে আমার নাকি কাজ হবে না, কারণ, প্রতিটি ভবনের সামনের মূল কলাপ্সেবল গেইটই তালাবদ্ধ। বললাম “এখানে আজ কোন মিটিং বা সেমিনার হচ্ছে না”? “হবে কী করে স্যার, এখানের সব বড় অফিসার আওয়ামি লীগের, তাই তো এটা আজ মরা-বাড়ি”।


পরে আমি এটু দূরের একটি মাসজিদে গিয়ে কাজ সারলাম।


হে রাজনৈতিক দলসমূহ! আপনারা আদৌ ভাববেন না, যে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনারা কেউ ক্ষমতায় আসলেই সব সংস্কার করে ফেলতে পারবেন। উপরে আমি যতগলো অপরাধের কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোর বিচার কবে হবে? আপনারা নতুন এসে গদি সামলাবেন, না কি সব বিচারই করে ফেলতে পারবেন? আজ পুলিশ-(আমি বিজিবি না), বলব ‘বিবিএফ’ (বাংলাদেশ বর্ডার ফোর্স) প্রায় সবই বিদ্ধস্থ। বিডিআর বিদ্রোহের নামে নিহত ৫৭ জন অফিসারের কয়টি বিচার আপনারা করে দেখাতে পারবেন? তাই হুড়োহুড়ির নির্বাচন দাবি করে আপনারা দেশটাকে অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ আর সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবেন না।


আপনারা কি পারবেন জাতীয়সঙ্গীত বদলাতে, যে জাতীয়সঙ্গীতে মাতৃভ’মির নাম একটিবারও নেই? 


আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কোন ‘যুদ্ধ’ ছিল না, এটা ছিল ‘জিহাদ’। যারা আগে ভাগে বিনা উস্কানিতে যুদ্ধ আরম্ভ করে, তারা হল জালিম, পাকিস্তানিরা ছিল জালিম। আর অমরা ছিলাম মজলুম। তাই, আমরা ছিলাম মোজাহিদ। আর মোজাহিদগণ কখনো পরাজিত হয় না, মরলে হয় শহিদ; আর বাঁচলে হয় গাজী। 


ইজরাইলিরা দীর্ঘ ৭ দশক ধরে ফিলিস্তিন ও অশপাশ অঞ্চল থেকে সেখানকার বৈধ অধিবাসিদেরকে তাদের নিজস্ব আবাসভ’মি থেকে বিতাড়িত করে সেখানে তাদের নিজেদের আবাসন গড়ে তুলছে। সুতরাং তারা হল জালিম। আর ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাঁদের সহযোগিরা হলেন মোজাহিদ। অতএব, তাঁদের কোন পরাজয় নেই। জয়-পরাজয় থাকে যুদ্ধ-বিগ্রহে, জিহাদে নয়। জিহাদে থাকে শুধু সফলতা-শাহাদাত অথবা গাজিত্ব।


আমাদের সেনাবাহিনি বলছেঃ আক্রান্ত হলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। এটা হচ্ছে ‘প্রতিরোধ’, আর প্রতিরোধের অপর নামই হচ্ছে ‘জিহাদ’। প্রথমবার প্রতিরোধের পর থেকে মোজাহিদদের দ্বিতীয় আক্রমন সহ সকল আক্রমনই জিহাদ।


এ পর্যায়ে আমার একটি বড় প্রশ্নঃ আমরা গোটা দেশবাসি মিলে সব মানুষ হব ২০ কোটি। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনি এক লক্ষ ৭০ হাজারের সেনাবাহিনি কেন? অতীতের সরকারগুলো কী ঘোড়ার ডিম করেছে? তাই, এ সরকার অথবা যে সরকারই আসুক না কেন, আমি জোর দিয়ে বলছিঃ অগামী ৮ বছরে আমাদের সেনাবাহিনি হবে আধুনিক আট লাখের সেনাবাহিনি। এবং এ সংখ্যা বছরে বছরে বাধ্যতামূলকভাবে এক লাখের মত বাড়তে থাকবে।


এতগুলো সরকার আসে আর যায়! করেটা কী? বছর দু’য়েক আগে আমার উপজিলার ইউএনঅ অফিসে গিয়ে দেখলাম=শিক্ষার হার মাত্র ৩৫%। হায়রে পোড়া কপাল; ভাবলাম, আমরা বোধ হয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বসবাস করছি। আর সরকারগুলোর আস্ফালন দেখলে মনে হয়, তাদের কাছে গোটা পৃথিবীটাই যেন বাংলাদেশ। 
অনেক খৃষ্টান মহিলারা এক সময় ঘোর আপত্তি জানিয়েছিল তাদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের বিরুদ্ধে। কারণ, বাইবেল নাকি অনেক জায়গায় নারিদেরকে ছোট করে, হেয় করে উপস্থাপন করেছে, যেটা চির আধুনিক মহা-বিজ্ঞানগ্রন্থ আল-ক্বোরআন একটি বারও করে নি। বরং আল-র্ক্বোআন নারিদেরকে স্থায়ীভাবে এক ঈর্ষনীয় উচ্চাসনে আসীন করে রেখেছে।


অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খেকশিয়ালের বিয়েতে তিন-তিনটি কন্যা দান করেছেন। কার কন্যা-তা অবশ্যই আমি বলতে পারব না বলে দুঃখিত। তাঁর কাছে এই হল নারির মর্যাদা। আমার বোধগম্য হয় না, আমাদের নারিরা হয় তো নারির সুউচ্চ-মর্যদা বোঝেন না, আর না হয়, বাঙ্গালী হয়েও বাংলা ভাষা বোঝেন না।
হে বাংলাদেশি জনগণ/ভাই-ভাতিজাগণ/ভাই-বোনগণ/মা-চাচা-চাচীগণ! প্রতিবেশির সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভদ্রতা, আর প্রতিবেশি জাতির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জাতীয় ভদ্রতা। আর জামেলা বাড়াইয়েন না, ইউটিউবের কথায় কলকাতা-উড়িষ্যা-বিহার ইত্যাদি দখল করতেও যাইয়েন না, পারবেনও না। জেনে রাখুন, “মানবের সম্মিলিত সহ-অবস্থানের উপরই বিশ্বশান্তি নির্ভর করে”=(তাফসীরে আল-র্ক্বোআন)। বিশ্ব-মোড়লরা এটা জানে না বলেই প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই বিশ^-শান্তির চিল্লচিল্লি, আর এই চিল্লাচিল্ল শুনেই বিশ^-শান্তি আরোও দ্রুতগতিড়ে পালায়।


আওয়ামি লীগ যে বিচারই করুক, বিশ্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সব বিচারই করতে পেরেছে, কারণ তার পেছনে আরেক বড় শক্তি ছিল। আপনাদের পেছনে কে আছে বলুন, বলুন তা? পাকিস্তান! সে তো তার চির-দুশনের উপর একটু নূনের ছিটা দিতে আগাচ্ছে। সুতরাং সব বিচার ও যাবতীয় সংস্কার সম্পূর্ণ হতে দিন। একমাত্র শিক্ষা বিভাগেই সংস্কার আছে হাজারে হাজার। ক্লাস নাইন-টেন এর ইংরেজি পাঠ্য বই লাখো ভুলে ভরা। ইংলিশ ভার্সনের অন্যন্য বইয়ে পাওয়া যাবে লক্ষ লক্ষ মিসটেক্স এ্যন্ড এর্রোস্ (দু’টো এক জিনিস নয়, ডিক্সনারিতে থাকলেও হবে না)। অন্যান্য ক্লাশের ইংরেজির টেক্স্ট বইয়ের কী হাল? একটু খোঁজ নিলেই বুজতে পারবেন। আর, পাঠ্যক্রমে এবার হয়ত মমনবকে শুকরের সন্তান বানাবেন; কারণ বানরের সন্তান তো বিগত বছরেই বানিয়ে ফেলেছেন। 


হে আমার রাজনৈতিক দলসমূহ! ক্ষমতায় আসবেন, দেশের স্বার্থে একটু ধৈর্য্য ধরুন। কারণ, ১৬ বছর সাধারন পাবলিকগণ ভোটের ব্যাপারে যে ছেঁকা খেয়েছে, তার প্রশমন হতে অবশ্যই সময় লাগবে, এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিৎ। সুতরাং সহসাই ভোটের এ্যরেঞ্জ করে বেচারা পাবলিকদেরকে অযথা বিপদে ফেলবেন না। গ্রামে-গঞ্জে তো আমি যাই। তারা তো বলেই, রাজনৈতিক সব দল হচ্ছে একই মুদ্রার এপিট-ওপিট অথবা একই ইটের বা একই বাক্সের ৬ পিটের এক এক পিট। প্রসঙ্গক্রমে কয়েকটি কথা বলতে হচ্ছেঃ
১/ কোন পতিত সরকারের পতন বা কোন পালিয়ে-যাওয়া সরকারের পলায়ন কোন শাসনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঘটে না।
২/ ওই পতন ঘটলেই সেই সরকারের পুরো অবকাঠামো সাথে সাথেই ধ্বসে পড়ে, তার পার্লামেন্ট সহ। তখন ওটা আর   
    ভাঙ্গার প্রয়োজন হয় না।
৩/ কোন পতিত সরকারের কোন পদত্যাগপত্র লাগে না।
৪/ তার প্রনীত শাসনতন্ত্র আপনা আপনি বাতিল হয়ে যায়। তাই ঐ শাসনতন্ত্রের প্রেসিডেন্টশীপও বাতিল হয়ে যায়।
৫/ পরবর্তী বিপ্লবী সরকার কোন শাসনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আসে না, তাই শাসনতন্ত্র তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে চাইলে 
    দেশের স্বার্থে সে একটি প্রণয়ন করতে পারে।
৬/ বিপ্লবী সরকারের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না।
৭/ সে এত এত দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে বাধ্য নয়।
৮/ আর স্মরন রাখতে হবে, শাসনতন্ত্র দেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষ শাসনতন্ত্রের জন্য নয়। 
আমি দেশে বিদেশে বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে আজীবন ও আপাদমস্থক একজন শিক্ষক। সুতরাং ভ’ল বুঝবেন না। আর, ‘প্রফেসর’ হতে গেলে অনেক অধ্যয়ন, অনেক গবেষণা, অনেক অনেক পাবলিকেশন্স লাগে। তাই, ‘প্রফেসর’ শব্দের বাংলা আরেক এক অর্থ হচ্ছে ‘পাবলিক টীচার’। সুতরাং রাজনীতি করার কোন খায়েশ আমার নেই, কখনো ছিলও না, তবে শিক্ষা-গবেষণার বিষয়ে সহযোগিতার কোন প্রয়োজন পড়লে আমাকে ডাকতে পারেন। কারণ, স্কুল-কলেজের সিলেবাস সমূহে যে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমি রিয়্যেলি কিছুটা হলেও কন্সার্ন্ড, যেহেতু কোন কোন ‘প্রিফেস’ লেখাতেও আমি বড় বড় দুর্বলতা/ভুল পেয়েছি।
উইথ রিগার্ডস্ এ্যÐ থ্যাঙ্কস্ টু অল।


লেখক: প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,  সিলেট, ও দেশে-বিদেশে 46 বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক। বর্তমানে ভিজিটিং প্রফেসর, সিলেট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট।